দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের বিরোধিতা করাই কাল হল ১৫ বছরের এক কিশোরের। অভিযোগ, সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো ছেলেকে প্রেমিকের সাহায্যে খুন করেন মহিলা। তারপর সেই খুন ধামাচাপা দিতে সাজানো হয় নিখোঁজের নাটক। শেষ পর্যন্ত বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তে সামনে এল চাঞ্চল্যকর সত্য।
ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার আদোনি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম বীরেন্দ্র। আদোনি মণ্ডলের জি হোসাল্লি গ্রামের বাসিন্দা সে। তদন্তকারীদের দাবি, বীরেন্দ্রর মা গঙ্গাম্মার সঙ্গে দরগাপ্পা নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই মায়ের এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল বীরেন্দ্র। শুধু পরিবারের সদস্যদেরই নয়, গ্রামের লোকজনের সামনেও সে বিষয়টি তুলে ধরেছিল বলে অভিযোগ।
এর জেরে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি হত। তদন্তকারীদের অনুমান, সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কা এবং ছেলের ক্রমাগত প্রতিবাদের কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, বীরেন্দ্রকে খুন করার পর গ্রামের বাইরে একটি কবরস্থানে গোপনে দেহ পুঁতে দেয় দুজন।
ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে অন্য কৌশল নেয় অভিযুক্তরা। বীরেন্দ্রর মা নিজেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। ছেলেকে খোঁজার নাম করে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেয় সে। এমনকি তদন্তে দেরির অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এবং ছেলেকে খুঁজে বের করার নির্দেশ চেয়েও আবেদন করে।
আদালতের নির্দেশের পর তদন্তে গতি আনতে তৈরি করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্ত চলাকালীন গঙ্গাম্মা ও দরগাপ্পার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। নজরদারি, ফোনের তথ্য এবং স্থানীয় সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের আরও জোরালো হয় সন্দেহ।
এক তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে বিষয়টিকে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সাক্ষীদের বয়ান মিলিয়ে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কবরস্থানের নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে। গত ১ জুন রাজস্ব আধিকারিক, চিকিৎসক দল এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বীরেন্দ্রর দেহাবশেষ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তা পাঠানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই দরগাপ্পাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না এবং খুনের পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

