দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (baruipur case status in bengali) দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারকে দেওয়া সুবিচারের আশ্বাস বাস্তব রূপ নিতে শুরু করায় অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে শোকগ্রস্ত পরিবার।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মূল চার অভিযুক্তকে জালে তুলেছে প্রশাসন (Baruipur News)। তবে তার মধ্যেই পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টাকালে এনকাউন্টারে (baruipur case status encounter) মৃত্যু হয়েছে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের (baruipur case status prabhas mondal)। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও কড়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা। মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের 'দাদা' সম্বোধন করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকায় তিনি সম্পূর্ণ আস্থাশীল।
মঙ্গলবারই নবান্ন থেকে সোজা বারুইপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সাক্ষাতের ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ঘটল মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার। এই ঘটনার পর নিহত কিশোরীর বাবা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা। তিনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে দোষীদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না। দাদার ওপর আমার পূর্ণ ভরসা রয়েছে এবং ওঁর এই পদক্ষেপে আমি অত্যন্ত খুশি। পুলিশও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভাল কাজ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার মেয়ে নিশ্চিতভাবেই বিচার পাবে এবং দাদা তাঁর কথা রাখবেন।'
গত রবিবার সকালে পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বারুইপুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবিলম্বে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেন এবং নিজেই ফোনে কথা বলেন পরিবারের সঙ্গে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তিন অভিযুক্ত— প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল ও আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করে। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে এই চক্রের চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও জালে তোলে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের (Crime Reconstruction) জন্য প্রভাসকে যখন দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন সে আচমকাই এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। সেই চরম মুহূর্তে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। পুলিশের গুলিতে মারাত্মক জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই শেষ হয় প্রভাসের অপরাধের অধ্যায়।
সাধারণত এনকাউন্টারের পর পরিবারের তরফে ক্ষোভ বা কান্নাকাটি দেখা গেলেও, এই ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। প্রভাসের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার নিজের মা এবং স্ত্রীও পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'ঠিক হয়েছে' বলে উল্লেখ করেছেন।
নিহত অপরাধীর পরিবারের সদস্যদের কথায়, 'ও বরাবরই নোংরা প্রকৃতির ছেলে ছিল। কারও কোনও কথা শুনত না, দিনরাত নেশা করত এবং কোনও কাজকর্মও করত না। একটা ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়ের সঙ্গে ও যে জঘন্য ও পাশবিক অত্যাচার করেছে, তার এই শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। একদম ঠিক হয়েছে।' পাড়া-প্রতিবেশীরাও প্রভাসের এই পরিণতিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং অধর্মের এই চরম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিতে গোটা এলাকাবাসী সন্তুষ্ট।

