Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমি! হিমবাহ ধসে নেপাল-চিন সীমান্তে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ধরা পড়ল স্যাটেলাইটে

নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমি! হিমবাহ ধসে নেপাল-চিন সীমান্তে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ধরা পড়ল স্যাটেলাইটে

THE WALL 2 weeks ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে হিমবাহ ধসে (Nepal Flash Flood) তৈরি হওয়া হড়পা বানের ধ্বংসলীলা ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে তোলা উপগ্রহ চিত্রে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেমে আসা বরফ, কাদা ও পাথরের ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flood) মুহূর্তের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে একের পর এক ঘরবাড়ি, রাস্তা ও সেতু।

সীমান্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ শনিবার চতুর্থ দিনে গড়ালেও এখনও আড়াই হাজারের বেশি মানুষের কোনও খোঁজ মেলেনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রকাশ করা কৃত্রিম উপগ্রহের 'আগে ও পরে'র ছবি বিপর্যয়ের বীভৎস রূপ স্পষ্ট করে দিয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের চিত্রে গায়রং পোর্ট ও রসুয়াগাধি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল বহুতল ভবন, মজবুত সেতু, সড়ক ও পারিপার্শ্বিক পরিকাঠামো। অথচ বিপর্যয়ের পর ২৭ অগস্টের উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই পুরো এলাকাটিই স্রেফ মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছে। নদীর বুক অস্বাভাবিক চওড়া হয়ে গিয়েছে এবং পুরো এলাকা ঢেকে গিয়েছে মোটা কাদা ও পাথরের স্তূপে।

শুক্রবার ধ্বংসস্তূপে পৌঁছনো উদ্ধারকারীরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। চিনের ২১ জনের এক বিশেষ উদ্ধারকারী দল দড়ি ও সরঞ্জাম নিয়ে দুর্গম পাহাড়, খাদ ও জঙ্গল পেরিয়ে রসুয়াগাধিতে পৌঁছয়। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁদের এই বিপজ্জনক পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। এক উদ্ধারকর্মী জানান, "সেখানে কোনও রাস্তা ছিল না, ছিল শুধুই খাড়া পাহাড় আর গভীর জঙ্গল। সীমান্তে পৌঁছে চোখের সামনে আমরা শুধুই ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেয়েছি।"

নেপাল সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর জানিয়েছে, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৪। তিব্বতের গায়রং অঞ্চলে আরও অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ বলে চিনের সরকারি মাধ্যম সূত্রে খবর। বিপর্যয়ে নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের বড় অংশই ভারত থেকে আসা কৈলাশ মানস সরোবরের পুণ্যার্থী। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপালে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিব্বতে আটকা পড়ে আছেন আরও ৪০০ জন। এই বন্যায় ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উদ্ধারকাজের মাঝেই শুক্রবার ফের প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধসের কারণে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদের জল উপচে লহেন্দে খোলা ও ত্রিশূলি নদীতে ঢুকতে শুরু করলে তিন ঘণ্টার জন্য উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে জলস্তর কিছুটা নামলে উদ্ধারকারী দল ও চিনা সেনাকর্মীরা পুনরায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকাজে গতি আনতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিচ্ছে কাঠমান্ডু প্রশাসন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall