কাজল বসাক, নদিয়া: পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে সরকারি বালতি চুরির অভিযোগে উত্তাল হল ভাতজাংলা (Nadia News)।
নবদ্বীপে পৌরসভার চেয়ারম্যানের (Nabadwip) বিরুদ্ধে ত্রিপল চুরির অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নদিয়ার ভাতজাংলা গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারি বালতি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ল।
ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য চৈতন্য অধিকারী এবং বর্তমান সদস্য তাঁর মেয়ে রিয়া অধিকারীর বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। উঠল 'চোর চোর, বালতি চোর' স্লোগান। ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় আবর্জনা সংগ্রহের জন্য বাড়ি বাড়ি বিলির জন্য আনা কয়েকশো সরকারি বালতি একটি গোডাউনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে সুযোগ বুঝে সেই বালতিগুলি নিজেদের পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে বিলি করার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর।
রবিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী খবর পায়, চৈতন্য অধিকারীর একটি গোডাউনে প্রচুর সরকারি বালতি মজুত করা হয়েছে। ওই গোডাউনটি কৃষ্ণ সাহা নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে কৃষ্ণ ও তাঁর বাবা দরজা খুলে দেন। এরপর গোডাউনের ভিতরে কোল্ড ড্রিঙ্কসের পেটির আড়ালে লুকিয়ে রাখা ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের স্ট্যাম্প মারা শয়ে শয়ে বালতি দেখতে পান বিক্ষোভকারীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাতভর দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। ওঠে 'চোর চোর, বালতি চোর' স্লোগান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি নেতারাও। এলাকাবাসীর একাংশ দাবি করেন, শুধু চুরিই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি সমর্থক পরিবারের সদস্যদের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন চৈতন্য অধিকারী ও তাঁর অনুগামীরা।
বালতি চুরির ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজু সেন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

