দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরকীয়া এখন আর ফৌজদারি অপরাধ নয়, সেই কথা আজ থেকে ঠিক ৮ বছর আগের একটি মামলায় স্পষ্ট করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court adultery case)। তবে এবার পরকীয়া সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। কোনও ব্যক্তির ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিল পরকীয়ার অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে (call records evidence)।
তাই প্রয়োজন হলে এই নথি দেখার সুযোগও দিতে হবে, এমনই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মামলাটি রাজস্থানের জয়পুরের। ২০২২ সালে এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, স্বামীর ফোনের কল রেকর্ড এবং বিভিন্ন হোটেলের বিল পরীক্ষা করলেই পরকীয়ার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব হবে।
মামলার শুরুতে পরিবার আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত স্বামীর ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিল সংক্রান্ত তথ্য মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা দিতে হবে। প্রথমে ওই মহিলা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলেন। কিন্তু মামলা দায়ের হওয়ার আগেই সেই ফুটেজ হোটেলের ডেটাবেস থেকে মুছে যায়। এরপর তিনি হোটেলের বিল, চেক-ইনের সময় জমা দেওয়া পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে চান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেন, এই তথ্য প্রকাশ করলে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হবে। সেই কারণেই তিনি আদালতের এই নির্দেশের বিরোধিতা করেন। পরে মামলাটি হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ অভিযুক্তের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, কোনও পক্ষ যদি নিজের অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে চান, তাহলে তা অযৌক্তিক নয়। বিশেষ করে ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিলের মতো নথি পরকীয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
এর আগে দিল্লি হাইকোর্টও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। হাইকোর্ট বলেছিল, অভিযোগকারী মহিলা শুধুমাত্র নিজের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে চাইছেন। তাই আদালতে এই তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টও সেই মতকেই সমর্থন করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেয়, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ালে তা আর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ, পারিবারিক বিরোধ বা গার্হস্থ্য হিংসার মতো মামলায় পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক নথি আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে। এই নতুন পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

