দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্ক ইনস্টিটিউশন স্কুলে মিড ডে মিল দেওয়ার পর ২৫ জন ছাত্রী হঠাৎ করে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়ায় উত্তর কলকাতায়। কিন্তু আচমকা এই অসুস্থতার সঠিক কারণ আদৌ মিড ডে মিল-ই কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয় গভীর অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা। অসুস্থ সমস্ত ছাত্রীদের তড়িঘড়ি কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় রাতে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাধীন ছাত্রীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, অসুস্থ ছাত্রীরা প্রত্যেকেই শ্যামবাজারের 'পার্ক ইনস্টিটিউশন ফর গার্লস'-এর শিক্ষার্থী এবং হোস্টেলে থাকত তারা। সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একের পর এক ছাত্রী তীব্র শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করে। বেলা ২টো থেকে রাত ৮টার মধ্যে দফায় দফায় মোট ২৫ জন ছাত্রীকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
জ্বর, তীব্র পেটে ব্যথা ও বমি! কারণ খুঁজছেন চিকিৎসকরা
হাসপাতালে আনার পরপরই জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা প্রতিটি ছাত্রীকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করেন এবং উপসর্গ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন। জানা গিয়েছে, অধিকাংশ ছাত্রীর শরীরেই তীব্র জ্বর, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা এবং ঘন ঘন বমির উপসর্গ দেখা গেছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমানের পর প্রত্যেক ছাত্রীকে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। এতজন পড়ুয়া কীভাবে একই সময়ের ব্যবধানে প্রায় একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল, সেটিই এখন চিকিৎসকমহল ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
খাবার থেকে বিষক্রিয়া নাকি ছোঁয়াচে সংক্রমণ? দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা
ঘটনার আকস্মিকতায় ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অসুস্থ ছাত্রীদের অভিভাবকরা। স্কুলের মিড-ডে মিল বা টিফিনের কোনও খাবার বা পানীয় জল থেকে বিষক্রিয়া (Food Poisoning) ঘটেছে, নাকি হঠাৎ কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তাঁরা।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সব ধরনের পরীক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত এখনই সুনির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। আপাতত সবকটি ছাত্রীকে হাসপাতালে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট এলেই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

