দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে মফস্বল— স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে স্থূলতা (Childhood Obesity) বা চাইল্ডহুড ওবেসিটি এক নিঃশব্দ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। 'ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ কমিউনিটি মেডিসিন'-এ (Indian Journal of Community Medicine) প্রকাশিত একটি সামগ্রিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভারতের স্কুলগামী শিশুদের একটি বিশাল অংশ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার।
এই গবেষণায় ১২৫টি আলাদা সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, শিশুদের মধ্যে ওবেসিটির গড় হার ৬.৯৭ শতাংশ। তবে অতিরিক্ত ওজন (Overweight) এবং স্থূলতাকে (Obese) একত্রে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ভারতের শিশুদের মধ্যে ওবেসিটির হার সবচেয়ে বেশি (৮.৫৮%), যেখানে মধ্য ভারতে এই হার সবচেয়ে কম (৫.৬৩%)। দেখা গিয়েছে, মূলত শহরের সচ্ছল পরিবারের শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। আধুনিক জীবনধারা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই শিশুদের ওজনের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ওবেসিটি এখন আর কেবল উচ্চবিত্তদের সমস্যা নয়, এটি ক্রমশ সারা ভারতের সব স্তরের শিশুদের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা ওবেসিটি বাড়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. অস্বাস্থ্যকর ডায়েট: ক্যালোরি-বেশি কিন্তু পুষ্টিগুণ-কম এমন খাবার যেমন— প্রসেসড স্ন্যাকস, চিনিযুক্ত পানীয় এবং ফাস্ট ফুডের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের খাদ্যাভ্যাস বদলে দিয়েছে।
২. স্ক্রিন টাইম বনাম খেলাধুলা: 'জার্নাল অফ মেডিসিন অ্যান্ড লাইফ'-এ প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে শিশুরা বাইরের খেলাধুলা থেকে বিমুখ হচ্ছে। ফলে ক্যালোরি গ্রহণের তুলনায় তা খরচ করার সুযোগ থাকছে না।
৩. নগরায়ন: শহরের জীবনযাত্রায় অস্বাস্থ্যকর খাবার খুব সহজেই হাতের নাগালে মিলছে, অথচ শিশুদের জন্য খোলা মাঠ বা ব্যায়ামের সুযোগ কমে আসছে।
স্থূলতা কেবল সৌন্দর্য বা ওজনের বিষয় নয়, এর সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। ওবেসিটির শিকার শিশুরা খুব অল্প বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শৈশবের এই বাড়তি ওজন অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও থেকে যায়, যা জীবনের মান কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর জন্য অভিভাবক, স্কুল ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার:
বাড়িতে তৈরি সুষম খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা।
মিষ্টি পানীয় ও জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা।
প্রতিদিন শারীরিক কসরত বা খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া।
শিশুদের গ্যাজেট ব্যবহারের সময় বা স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।
স্কুলগুলোকে কেবল পড়াশোনা নয়, বরং পুষ্টিশিক্ষা এবং পর্যাপ্ত শরীরচর্চার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতের বর্তমান প্রজন্মকে অকাল বার্ধক্য বা জটিল রোগের হাত থেকে বাঁচাতে এই 'লাইফস্টাইল চ্যালেঞ্জ' মোকাবিলা করা এখন সময়ের দাবি।
সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। আপনার শিশুর ওজনের বিষয়ে কোনও উদ্বেগ থাকলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Disclaimer: This report is based on recent studies and expert warnings regarding childhood obesity. Consult a healthcare professional for specific medical advice related to your child's health.

