দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা (Falta)। ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল স্থানীয়রা। এরপরই কমিশন (ECI) তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার তিন তৃণমূল কর্মী।
ফলতা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দিন থেকেই কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। শনিবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় হাশিমনগর ও সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, এলাকায় বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত পরিবারগুলির বাড়িতে চড়াও হচ্ছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মারধরও করা হচ্ছে বলে খবর। এই ঘটনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ দুই নেতা ইস্রাফুল চোকদার এবং সুজাদ্দিন শেখের নাম। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ইস্রাফুলের নেতৃত্বেই একদল যুবক বাইক বাহিনী নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে।
এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই নেতার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেয় কমিশন। শুধু তাই নয়, পুলিশ যদি পদক্ষেপ করতে গড়িমসি করে, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
স্পষ্ট জানানো হয়, ইস্রাফুল চোকদার, সুজাদ্দিন শেখ এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। কমিশনের এই নির্দেশিকার পর পুলিশি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, নির্দেশ পালন না হলে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বার্তা স্পষ্ট, এলাকায় শান্তি ফেরাতে হবে পুলিশকেই, আর তাতে কোনও আপস চলবে না।
উল্লেখ্য, ফলতার বেশ কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছিল আগেই। আজ রাজ্যের ১৫টি বুথে নতুন করে ভোট গ্রহণ হলেও সেই তালিকায় ফলতার নাম ছিল না। এতে ক্ষোভ আরও বেড়েছে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে। তাঁরা এখনও ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনড়। একদিকে কমিশনের কড়া নির্দেশ আর অন্যদিকে ক্ষুব্ধ জনতা - এই দুইয়ের চাপে ফলতা থানার পুলিশ। এখন দেখার, কমিশনের নির্দেশের পর অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের জালে তুলতে পুলিশ কতটা সক্রিয় হয়।

