দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ফর্ম-৬ (Form 6) নিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়। আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভিযোগ নস্যাৎ করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সিইও দফতরের তরফে নতুন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।
২৬-এর নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।
সম্প্রতি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একটি অভিযোগ তোলে যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বিপুল পরিমাণে ফর্ম-৬ (FORM 6) জমা নিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি ছিল, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দিনে ৫০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে পারেন না, অথচ বিজেপি কর্মীরা গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম জমা দিচ্ছে এবং কমিশন নিয়ম লঙ্ঘন করে তা গ্রহণ করছে।
তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ 'ভ্রান্ত' বা 'মিথ্যা' বলে জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সিইও দফতর (CEO West Bengal)। কমিশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তাঁদের ব্যাখ্যা, বিগত কয়েক দিনে যে সব নথি জমা পড়েছে সেগুলির অধিকাংশ ফর্ম-৬ নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যেসব ভোটারের নাম 'ডিলিটেড' বা বাদ দেওয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, মূলত তাঁরাই তাঁদের নামের বিষয়ে আবেদন বা আপিল জমা দিয়েছেন।
আরও জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ (Representation of the People Act, 1950) অনুযায়ী, এই ধরনের আবেদন জেলা শাসক বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়া যায়। কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, 'বিজেপি কর্মীরা ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছে' - এই তথ্যটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিয়ম মেনেই আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে এবং ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়নি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, শুক্রবারই সিইও দফতরে গিয়ে মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অরূপ বিশ্বাস বলেন, কত ফর্ম-৬ জমা পড়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সহ জানাবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
গত সোমবার বিকেলে রাজ্যের সিইও দফতরে গেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। প্রশ্ন তুলেছিলেন, সিইও অফিসের দোতলায় কী রাখা রয়েছে? অভিযোগ, যাঁদের সঙ্গে বাংলার কোনও স্থায়ী যোগ নেই, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এর পিছনে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেই দাবি করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, ভিনরাজ্যের 'পরিযায়ী' লোকজনকে ভোটার সাজিয়ে বাংলার ভোটের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির এবং সেই কাজ সঙ্গত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষিতেই সিইও দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

