দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দুপুরে হঠাৎ দেশের কোটি কোটি মানুষের মোবাইল ফোনে বেজে ওঠে এক তীব্র সাইরেন। ফোনের পর্দায় ভেসে ওঠে 'একস্ট্রিমলি সিভিয়ার অ্যালার্ট' বা অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা। তবে এই ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ভারত সরকার এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'সেল ব্রডকাস্ট' জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালাল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যে কোনও বড় বিপদের সময় মুহূর্তের মধ্যে দেশবাসীকে সচেতন করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
কেন্দ্রীয় সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যৌথভাবে এই পরিষেবার শুভ সূচনা করেন। এই প্রকল্পের প্রাণভোমরা হল 'সচেতন' (SACHET) নামক একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। ভারত সরকারের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের গবেষণা সংস্থা 'সি-ডট' (C-DOT) সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের সুপারিশ মেনে তৈরি এই ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ১৯টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় ১৩ হাজার ৪০০ কোটিরও বেশি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। তবে আগে এই কাজ মূলত সাধারণ এসএমএস-এর (SMS) মাধ্যমে করা হত। নতুন এই 'সেল ব্রডকাস্ট' প্রযুক্তি সাধারণ বার্তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও কার্যকর। এর সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল, ফোন সাইলেন্ট বা 'ডু নট ডিস্টার্ব' মোডে থাকলেও এই সতর্কবার্তা আসার সময় ফোনে তীব্র আওয়াজ হবে এবং স্ক্রিনে বড় করে মেসেজ ফুটে উঠবে। ফলে ঘুমন্ত অবস্থায় বা ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষের নজর এড়ানো অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প, সুনামি বা বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি গ্যাস লিক বা রাসায়নিক দুর্ঘটনার মতো মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের সময়েও এই প্রযুক্তি জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করবে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় বিপদ ঘনিয়ে এলে সেই অঞ্চলের সমস্ত মোবাইল হ্যান্ডসেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই এলার্ম বেজে উঠবে। এর জন্য ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনও সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে না।
শনিবারের এই সফল মহড়া প্রমাণ করে দিল যে, জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিতে ভারত এখন প্রযুক্তির দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য হলো, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া, যাতে কোনও বড় বিপর্যয়ে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।

