দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার লোক ভবনে রাজকীয় জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। রাজ্যপাল আরএন রবির হাত ধরে যে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে নয়াগ্রামের বিধায়ক অমিয় কিস্কুর নাম।
জঙ্গলমহলের এই আদিবাসী অধ্যুষিত আসনটিতে তৃণমূলের তিন বারের পোড়খাওয়া ও অভিজ্ঞ নেতা দুলাল মুর্মুর বিরুদ্ধে লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু ভোটের ময়দানে সবাইকে চমকে দিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে জয়ের শেষ হাসি হাসেন অমিয়। আর ফলপ্রকাশের পর থেকেই জেলাজুড়ে যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, সোমবার রাজভবনের লাল কার্পেটে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তার অবসান ঘটালেন তিনি।
অমিয় কিস্কুর পরিচিতি শুধু একজন রাজনীতিক হিসেবেই নয়, তিনি আদতে একজন শিক্ষক। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি মাটির কাছের মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার এক আশ্চর্য গুণ রয়েছে তাঁর। ভোট প্রচারের সময় গোপীবল্লভপুর ২ ব্লকের চোরচিতা অঞ্চলে গিয়ে তাঁর এক অন্য রূপ দেখেছিলেন সাধারণ মানুষ। গলায় নির্বাচনী মালা আর পরনে লাল-হলুদ পাঞ্জাবি থাকা সত্ত্বেও, গ্রামের একটি নির্মীয়মাণ পাকা বাড়ির কাজ দেখে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি অমিয়। সোজা চলে যান রাজমিস্ত্রিদের কাছে এবং তাঁদের সাথে লোহার রডের কাঠামো বাঁধার কাজে হাত লাগান।
সেই সময় অমিয় হাসিমুখে বলেছিলেন, "পেশায় শিক্ষক হলেও আমি তো আসলে গ্রামেরই ছেলে। রাজমিস্ত্রির এই কাজগুলো আমার জানা আছে। তাই ওঁদের কাজে একটু সাহায্য করলাম।" এই সরলতা আর মাটির টানই তাঁকে নয়াগ্রামের মানুষের চোখের মণি করে তুলেছে।
ভোটের লড়াই পেরিয়ে অমিয় এখন রাজ্যের নীতিনির্ধারক। আর মন্ত্রী হতেই নয়াগ্রামের বাসিন্দাদের প্রত্যাশার পারদ চড়তে শুরু করেছে আকাশছোঁয়া। জঙ্গলমহলের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা হল, কর্মসংস্থান ও ভারী শিল্পের অভাব। বাছুরখোয়ারের বাসিন্দা সুভাষ বেরার কথায়, "নয়াগ্রামে কর্মসংস্থানের বড্ড অভাব। এখানে যদি নতুন কলকারখানা গড়ে ওঠে, তবে যুবকদের বাইরে যেতে হবে না। আশা করি, আমাদের নতুন মন্ত্রীমশাই এবার এই বিষয়ে বড় উদ্যোগ নেবেন।"
দফতর বণ্টন প্রসঙ্গে নতুন প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু অবশ্য বেশ সংযত। শপথ নেওয়ার পর তিনি জানান, "শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান তো মিটেছে, তবে এখনও চূড়ান্ত দফতর বণ্টন হয়নি। খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী দফতর বণ্টন করে দেবেন।" তবে দফতর যাই মিলুক না কেন, জঙ্গলমহলের ঘরের ছেলের হাত ধরে নয়াগ্রামের যুবকদের কর্মসংস্থানের স্বপ্নপূরণ হবে কিনা, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা জেলা।

