দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে শব্দই ব্রহ্ম। দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময়ে অনেক কথাই স্রোতের মতো বয়ে যায়। বহু মানুষ হয়তো তাতে ফিরেও তাকায় না। কিন্তু সময়ের গুণে আবার সেই কথাই অর্থবহ হয়ে ওঠে। ঠিক যেমনটা শুক্রবার রাত থেকে হল। এদিন রাতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee Post) ফেসবুকে একটি দেওয়ালের ছবি দিয়ে পোস্ট করে লেখেন, 'অনেকদিন পর এই শহরেই আবার নতুন করে নতুন গল্প তৈরী হচ্ছে'।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান জ্যেষ্ঠ্য পুত্রের সেই পোস্টে আরও কিছু শব্দ বেশ সুন্দর। জানালা দিয়ে যে দেওয়াল দেখা যাচ্ছে তাতে লেখা, 'অনেক দিন পর এ শহরে অপেক্ষা করতে ভালো লাগছে...'।
এই পোস্টে টইটুম্বুর একটা আবেগ রয়েছে। আপাত দর্শনে কোনও রাজনীতি নেই। কিন্তু এও তো ঠিক যে, এই শহর, মানে কলকাতা, এই মুহূর্তে এক অদ্ভূত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাংলায় বিধানসভা ভোট হয়ে গেছে। যে ভোটে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, হিন্দুত্ব, এসআইআর, সংগঠনের জোর মায় বহু স্তর কাজ করেছে। কেউ সাহস করে মুখ খুলেছেন, কেউ খোলেননি। তার পর সেই ভোট মিটে যেতে অধীর আগ্রহে একটা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। সেই অপেক্ষার মুহূর্তে কেউ যদি 'নতুন করে নতুন গল্প তৈরির' আশা জাগিয়ে দিতে চান, তাহলে তো আলোচনা হতেই পারে।
এমনিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আস্থাভাজন বলেই সাধারণ ধারনা। কিছু দিন আগে এক মঞ্চে প্রসেনজিৎকে পাশে নিয়ে নতুন এক গল্পও শুনিয়েছিলেন দিদি। তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলার জেলা শহর ও মফস্বলগুলিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছোট ছোট কিছু প্রেক্ষাগৃহ খুলবেন। তাতে বিনিয়োগ হবে, বিনোদনের আয়োজন হবে। কিছু কাজও পাবেন লোকজন।
তবে অনেকটা পিছনের দিকে তাকালে দেখা যাবে এক সময়ে মনান্তরের গল্পও লেখা হয়েছিল। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং তৎকালীন বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের প্লেনে এক সঙ্গে দেখা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। যা নিয়ে রাজনৈতিক জিলিপি তৈরির চেষ্টাও করেছিলেন কেউ কেউ। ঘটনাচক্রে দেখা যায়, এর পরপরই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজক কমিটি বা উপদেষ্টা মণ্ডলী পুনর্গঠন করা হলে, সেখান থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম বাদ পড়ে।
পরে অবশ্য সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে প্রসেনজিৎ বলেছিলেন, 'এসবে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। গত কয়েক বছর ধরেই এমনটা চলছে। কাজের সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। সকলে ভালবাসেন। আমার অভিনয়ের জন্য, কাজের জন্য আমাকে পছন্দ করেন। রাজনীতির জন্য নয় কিন্তু।'
তবে অনেকের মতে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় একটি প্রযোজনা সংস্থা খুলেছিলেন। সেই সংস্থার লোগোও প্রসেনজিতের পোস্ট করা ছবির কোণায় লাগানো রয়েছে। হতে পারে নতুন কোনও ছবির কথা বলতে চেয়েছেন প্রসেনজিৎ। তা নিয়েই অহেতুক জল্পনা হচ্ছে।

