দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে এনটিএ-তে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে গোটা সিস্টেমকে। এরপরই নিটে প্রশ্নফাঁসের কথা স্বীকার করে নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার তিনি বলেন, 'প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল এবং এই ঘটনায় জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার ব্যর্থতাও রয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষা-মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র সরকার।'
শুক্রবার একান্ত সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, 'আমি মেনে নিচ্ছি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে, সেটাও আমি স্বীকার করছি।' নিট পরীক্ষাকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে, তখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট করার পিছনে যে সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা-মাফিয়াদের নির্মূল করবে সরকার। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জানা গেছে, অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে নিট প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সমস্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।
শুধু নিট নয়, সিবিএসই-র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, মূল্যায়ন ব্যবস্থায় একাধিক অসঙ্গতি ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সামনে এসেছে। বিশেষ করে ওএসএম সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কাজ। এই সমস্যা সমাধানে আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, সিবিএসই-র পেমেন্ট গেটওয়েতেও সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছিল। বিদেশি হ্যাকারদের তরফে এই হামলা চালানো হয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাইবার বিশেষজ্ঞ দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
১১ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া এই ক্ষেত্রে নিজেদের উত্তরপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করেছেন এপর্যন্ত। পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন প্রায় চার লক্ষ পরীক্ষার্থী। তাঁর আশ্বাস, প্রত্যেক পড়ুয়ার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করা হবে শীর্ঘ্রই।
এদিন ওই সাক্ষাৎকারে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনারও জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী বারবার দেশকে অসম্মান করেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করছেন।

