দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ মুক্তি পেতে চলেছে পোস্টার, আর সেই সঙ্গেই সামনে এল এক খবর। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) বড়পর্দার ছবির নাম বদলে গেল। এতদিন যে ছবিকে সবাই 'আইসিইউ' (ICU) নামে চিনতেন, সেটিই এবার নতুন পরিচয়ে আসছে 'ভূতু আয়া ভাগো' নামে।
পরিচালনায় সৌভিক দে। ছবিতে রাহুলের পাশাপাশি রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র, শ্রীমা ভট্টাচার্য, আরিয়ান ভৌমিক, দেবরাজ ভট্টাচার্য এবং মৌমিতা পণ্ডিত। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরেই মুক্তি পাবে ছবিটি।
নামের পরিবর্তন যতটা চমক তৈরি করেছে, তার থেকেও অনেক বেশি আবেগ জড়িয়ে রয়েছে ছবিটিকে ঘিরে। কারণ, এটি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের একেবারে শেষ দিকের বড়পর্দার কাজগুলির অন্যতম। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর ছবিটি আর শুধু একটি সিনেমা হয়ে থাকেনি, বরং তাঁর অভিনয়জীবনের শেষ অধ্যায়ের এক মূল্যবান স্মারক হয়ে উঠেছে। তাই ছবিটিকে ঘিরে দর্শকদের আবেগ এবং আগ্রহ, দুটোই স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
কয়েকজন তরুণের একটি নিরীহ প্র্যাঙ্ক, যা প্রথমে নিছক মজার ছলেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনাই সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে এমন এক পরিস্থিতির জন্ম দেয়, যা কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বিনোদনের আবরণে ছবিটি তুলে ধরতে চেয়েছে ডিজিটাল যুগে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অসাবধানতা এবং তার ভয়াবহ পরিণতির কথা।
এই ছবির মাধ্যমেই প্রথমবার একসঙ্গে জুটি বাঁধছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীমা ভট্টাচার্য। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে শ্রীলেখা মিত্র, আরিয়ান ভৌমিক ও দেবরাজ ভট্টাচার্যকে। ছবির বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছে পাহাড়ি এলাকায়। বাকি অংশের কাজ শেষ হয়েছে কলকাতায়। শুটিংয়ের পাশাপাশি ডাবিংয়ের কাজও রাহুল শেষ করে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁর অভিনীত শেষ সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র হিসেবেই দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে 'ভূতু আয়া ভাগো'।
তবে ছবির গল্পের বাইরেও আজ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রাহুলের অনুপস্থিতি। ইউনিটের সদস্যদের কাছে তিনি শুধু দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, ছিলেন পুরো দলের প্রাণ। শুটিং ফ্লোরে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ, নিরলস কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং সবাইকে একসঙ্গে বেঁধে রাখার অদ্ভুত ক্ষমতা। কাজের ফাঁকে আড্ডা, হাসি-মজা কিংবা কঠিন সময়ে সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন নির্ভরতার আরেক নাম। তাই তাঁর চলে যাওয়ার শূন্যতা আজও মেনে নিতে পারেননি অনেকেই।
রাহুলের জীবন থেমে যায় শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। শেষবার তিনি কাজ করছিলেন একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে। সেই অসমাপ্ত পথচলার মধ্যেই বড়পর্দার শেষ অধ্যায় হয়ে থেকে গেল 'ভূতু আয়া ভাগো'।
দ্য ওয়ালকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় পরিচালক সৌভিক দে নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, 'কত স্মৃতি মনে পড়ছে। এই একটা কথা বারবার বলতে চাই না...। কথা প্রসঙ্গে তো আমরা কত কী-ই বলে থাকি। আজ এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য বারবার সেই কথাগুলোই মনে পড়ছে। দাদা, এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। কোথাও কিছু লিখিনি। এই যন্ত্রণা একেবারেই আমার ব্যক্তিগত। মানুষটাই চলে গিয়েছে।'

