দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় যুব তৃণমূলের মিছিল ঘিরে যে নজিরবিহীন অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার রণংদেহী মেজাজে তৃণমূল (TMC)। রাজপথের লড়াই এবার সমাজমাধ্যমেও। এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জোড়াফুল শিবিরের স্পষ্ট বার্তা, "আজ যা ঘটেছে তা চরম বর্বরতা।
তবে এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই থামবে না।" একই সঙ্গে দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলায় তাদের ৪১ জন কর্মী ও নেতা গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সমাজমাধ্যমে কী লিখল তৃণমূল?
এদিনের ঘটনার পরে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে ক্ষোভের আগুন ঝরে পড়ে। তৃণমূল লিখেছে, "আজ আমরা আমাদের কর্মীদের ওপর চরম বর্বরতার ঘটনা দেখলাম। মাননীয় আদালতের সমস্ত অনুমতি নিয়ে তাঁরা যখন একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হল। এই হিংসা ও অন্যায়ের প্রতিটি ঘটনার কথা আমাদের মনে থাকবে। রাজ্যটা আজ সম্পূর্ণ অন্ধকারে তলিয়ে গেছে, কিন্তু ন্যায়ের জন্য আমাদের যে লড়াই, তা থেকে আমাদের কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না।"
তৃণমূলের দাবি, আজ বালিগঞ্জ ও হাজরা চত্বরে 'বিজেপির গুন্ডা'রা যেভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, তা পরিকল্পিত। এই হামলায় দলের ৪১ জন কর্মী-সমর্থক রক্তাক্ত হয়েছেন, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
"মাথায় রক্ত ঝরছিল..." সরব স্বয়ং মমতাও
অন্যদিকে কালীঘাটে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্য প্রশাসন ও পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দেগেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বারুইপুরের গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এই মিছিলের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, "আদালত হ্যান্ড মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিলেও পুলিশ তা কেড়ে নিল। আর সকাল থেকে বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে পুরো এলাকায় ডিজে বাজিয়ে তাণ্ডব চালাল বিজেপি। মিছিলে অংশ নেওয়া আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছে। আমি নিজে গেটের বাইরে গিয়ে আক্রান্তদের উদ্ধার করেছি, প্রত্যেকের মাথায় রক্ত ঝরছিল! বাংলার মানুষ কি এই পরিবর্তন চেয়েছিল?"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিয়ে পবিত্র নামকে অবমাননা করা হচ্ছে এবং প্রকৃত পুণ্যার্থীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও মিড-ডে মিল নিয়ে তোপ
এদিন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ 'দিশেহারা' আখ্যা দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "গত দুই মাসে রাজ্যে ১৪ জনেরও বেশি নারী ও শিশু ধর্ষিতা হয়েছেন, বহু মানুষকে খুন করা হয়েছে। পুরো শাসনব্যবস্থায় কোনও আইন নেই।" এর পাশাপাশি শিশুদের মিড-ডে মিলের পুষ্টি কেড়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন, "বাচ্চাদের পাতের ডিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই ডিম এখন সাধারণ শিশুরা পাচ্ছে না, বিজেপি কর্মীরা তা লুট করছে।"
আদালতের অনুমতি থাকার পরেও কলকাতার বুকে তৃণমূলের মিছিলে এমন হামলার ঘটনা এবং তার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের এই অল-আউট অ্যাটাক— সব মিলিয়ে ঘাশফুল বনাম পদ্ম শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই যে আরও কয়েক গুণ তেতে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।

