দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ভরসন্ধ্যায় ৮৮ কিমি বেগে ধেয়ে আসা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক দুর্যোগ তছনছ করে দিল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। খাস কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও পর্যন্ত মোট ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।
বিধায়কদের দ্রুত টাকা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
শনিবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঝড়ের দাপটে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে প্রশাসন। স্থানীয় বিধায়করা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক উপভোক্তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, ঝড়ের দাপটে ও গাছ ভেঙে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, 'আহতদের ক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার চেয়ে এই মুহূর্তে আগে সঠিক চিকিৎসা শুরু করাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই চিকিৎসার বন্দোবস্ত আগে করা হচ্ছে। তবে তাঁদের কত টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'
কলকাতায় তাণ্ডব, লন্ডভন্ড শহরের রাস্তাঘাট
শুক্রবার বিকেলের সেই মারাত্মক ঝড়-বৃষ্টিতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর এলাকা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতার ওপর দিয়ে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার বেগে স্কোয়াল বা দমকা ঝড় বয়ে গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সাউথ সিটি মলের কাচের একাংশ ভেঙে পড়েও ছড়ায় তীব্র আতঙ্ক।
কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরের বহু রাস্তায় উপড়ে পড়েছে শতাব্দীপ্রাচীন বড় বড় গাছ। এর ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে ভেঙে পড়া গাছ এবং ডালপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
দুর্যোগ কাটেনি, ১০ জেলায় জারি হাই অ্যালার্ট
শুক্রবারের এই কালবৈশাখীর তাণ্ডবের পর স্বস্তি মিলছে না এখনই। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের ওপর এখনও ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। ফলে আজ শনিবারও কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ১০টি জেলায় তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে নবান্নের কন্ট্রোল রুম। অবিন্যস্ত তার এবং বিপজ্জনক গাছগুলির আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

