তৃণমূলের প্রবীণতম বিধায়ক, সম্ভবত সেই কারণেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Sovendeb Chattopadhyay) বিরোধী দলনেতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়তো ধারণা ছিল, শোভনদেবই চালিয়ে নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে আলোচনারও সম্ভবত প্রয়োজন বোধ করেননি তাঁরা।
অথচ সেই শোভনদেব এমনতর নেতা যে, যিনি রবিবার বিকেলের আগে জানতেও পারেননি যে যে তৃণমূলের বিধায়ক দলে ধস নেমে গেছে। কালীঘাট থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে একটি পৃথক ওয়াররুমে বসে গরিষ্ঠ সংখ্যক বিধায়কের সই সংগ্রহে নেমে পড়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।
তৃণমূলের এই ভাঙনের সন্ধান সবার আগে দিয়েছিল দ্য ওয়াল (The Wall)। রবিবার সকালে সেই বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল দ্য ওয়ালে। তাতে লেখা হয়েছিল, বিকেলে দিদির বাড়িতে ডাকা বিধায়ক দলের বৈঠকে ৩০ জন বিধায়কও যাবেন কিনা সন্দেহ। আর তাতেই ভেস্তে যেতে পারে বিধায়ক দলের বৈঠক। হয়ও ঠিক তাই। দিদি, অভিষেক ও ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস বয় সুমিতের বহু ফোনাফুনির পর মাত্র ১৯ জন পৌঁছেছিলেন কালীঘাটে।
এ ঘটনা ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটকে যখন বজ্রাঘাতের মতো বিঁধছে, তখন ওদিকে পুরোদমে চলছিল 'অপারেশন জোড়াফুল'। রবিবার রাতেই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল গোষ্ঠীতে সই করে সামিল হন প্রাক্তন দুই মন্ত্রী। তাঁদের এক জনের বাড়ি হাওড়ায় তো অন্যজনের উত্তর ২৪ পরগনায়। সেদিন রাত পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শিবিরে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩০-এ।
কিন্তু তার পরেও হাতে ছিল আরও ২০। সোমবার রাতের মধ্যে সেই অপারেশনও কমপ্লিট হয়ে যায়। তার মধ্যে একটা ছবি অনেকেই দেখতে পান। তা হল, কিড স্ট্রিটের এমএলএ হস্টেলে গিয়ে শিউলি সাহার সই সাবুদ। তবে জানিয়ে রাখা ভাল, শিউলির সঙ্গে দৌত্য শুরু হয়েছিল অন্তত আরও তিন দিন আগে। কেশপুরের বিধায়ক সইটা করেছেন সোমবার।
তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ককে এক জোট করতে গেলে ৫৪ জন বিধায়কের প্রয়োজন (মতান্তরে ৫৩)। অর্থাৎ চার জন বিধায়কের সই আরও দরকার ছিল।
সর্বশেষ খবর হল, এমএলএ হস্টেলে পৌঁছচ্ছেন আরও চার বিধায়ক। তাঁদের সই সাবুদ হয়ে যেতে পারে রাতের মধ্যে। অর্থাৎ দল ভাঙানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অর্জন করার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধরা।
এই অপারেশন জোড়াফুলের কাউন্টারে নেমেছে কালীঘাটও। সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে বেছে কিছু সংখ্যালঘু বিধায়ককে ফোন করেছেন। ফোন করতে নেমেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। এমনকি শোভনদেব সকালে এক বিধায়ককে ফোন করে দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু বিধায়করা মমতাকে ছেড়ে যাবেন না।
বিক্ষুব্ধ শিবিরের এক বিধায়কের কথায়, শোভনদেব কোন স্বপ্নজগতে রয়েছেন, কে জানে! কলকাতার সংখ্যালঘু এক বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে কত মুসলিম বিধায়ক যে সই করে ফেলেছেন, উনি জানতেই পারেননি। অনেক দেরিতে ঘুম ভেঙেছে বালিগঞ্জের বিধায়কের।
জানা গেছে, ৫৪ জন বিধায়ক সই করার পর বুধবার তাঁদের বিধানসভায় ডাকা হয়েছে। অর্থাৎ নাটকের এখনও অনেক বাকি রয়েছে। চিত্রনাট্য এখন কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।

