দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত পোহালেই ইভিএম বন্দি ভাগ্যের ফয়সালা। তবে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ভোট গণনার ঠিক আগে বড়সড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন (ECI)। গত ৩০ এপ্রিল রাজ্যে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭ থেকে কমিয়ে ৭৭ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর থেকে সেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
২৯৩টি বিধানসভা আসনের (আপাতত ফলতা বাদে) ভোট গণনা রাজ্যের কোন কোন কেন্দ্রে হবে এবং কোন জেলার কোন ভবনে কর্মীরা ব্যালট মেলাবেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখন জনসমক্ষে।
কলকাতার ১১টি আসনের জন্য মোট ৫টি গণনাকেন্দ্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ও মধ্য কলকাতার বড় অংশের গণনা হবে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র সংলগ্ন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে। সেখানে চৌরঙ্গি, এন্টালি, বেলেঘাটা থেকে শুরু করে কাশীপুর-বেলগাছিয়া পর্যন্ত সাতটি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। হাই-প্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা হবে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। কলকাতা বন্দরের ফল জানা যাবে ডায়মন্ড হারবার রোডের সেন্ট টমাস বয়েজ স্কুলে। দক্ষিণ কলকাতার অন্য দুই কেন্দ্র রাসবিহারী ও বালিগঞ্জের গণনা হবে যথাক্রমে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল এবং বাবা সাহেব আম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
যাদবপুর এলাকার জন্য এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভাঙড় ও সোনারপুরের আসনগুলির ভোট গোনা হবে। অন্যদিকে, বেহালা পূর্ব ও পশ্চিমের গণনা চলবে আলিপুর জাজেস কোর্টের বিহারীলাল কলেজে। আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্সে মহেশতলা, মেটিয়াবুরুজ ও টালিগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলির ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
জেলাওয়াড়ি বিন্যাস অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি ৩৩টি আসন থাকায় সেখানে ৮টি গণনাকেন্দ্র রাখা হয়েছে। বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ, বসিরহাট পলিটেকনিক থেকে শুরু করে ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজে চলবে ভোট গণনার মহাযজ্ঞ। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৬টি, মুর্শিদাবাদে ৫টি এবং হুগলি ও উত্তর দিনাজপুরে ৫টি করে গণনাকেন্দ্র থাকছে। নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানে ৪টি করে কেন্দ্র করা হয়েছে। পাহাড়ের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে কালিম্পং ও ঝাড়গ্রামে ১টি করে এবং আলিপুরদুয়ারে ১টি কেন্দ্রে গণনা সম্পন্ন হবে।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই কড়া নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরা থাকবে। গণনাকেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, আগামীকাল দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে কে বসছেন।

