দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) থেকে স্বস্তি পেলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না কমেডিয়ান সময় রায়নার (Samay Raina)। 'ইন্ডিয়াস গট ল্যাটেন্ট' (India's Got Latent Season 2) শো-তে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের মামলাটি শীর্ষ আদালত বাতিল করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফের নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
শো-এর দ্বিতীয় সিজনে কমেডিয়ান শ্যারন বর্মা এবং সময়ের মধ্যে বিহার ও কাশ্মীর নিয়ে হওয়া একটি কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিতর্ক বাড়তে থাকায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সময়ের আইনি টিম (Samay Raina legal trouble)।
শো-এর কনটেন্টে নজরদারি ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি
সময় রায়নার আইনজীবী লাভিন হিরানি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা এখন 'ল্যাটেন্ট ২'-এর কনটেন্ট নিয়ে সতর্কভাবে পর্যালোচনার কাজ করছেন। তবে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই নজরদারির উদ্দেশ্য কোনওভাবেই সময়ের ক্রিয়েটিভিটি বা বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া নয়। কারণ অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করলে এই ধরনের কমেডি শো-এর মূল স্বাদটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
পুরনো মামলার নিষ্পত্তি ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
গত ১৪ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সময় রায়না এবং অন্য চারজনের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাটি বাতিল করে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সচেতনতামূলক প্রচার ও তহবিল সংগ্রহের কাজ করায় আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়। আইনজীবী হিরানি জানান, 'কিওর এসএমএ ফাউন্ডেশন'-এর করা সেই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া ছিল না। মূলত দূরদর্শন, সিনেমা বা শো-তে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কীভাবে চিত্রায়িত করা উচিত, তার নির্দিষ্ট কোনও আইনি নির্দেশিকা ছিল না বলেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশে সময় ও তাঁর দল দাবা প্রতিযোগিতা এবং তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করলেও, পরবর্তীতে বিষয়টিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা খরচ, সমাজের সুবিধা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মসম্মানের বিষয়টি কীভাবে তুলে ধরা যায়, সে বিষয়েও নজর দেওয়া হয়েছে, যা জেনে আদালতও প্রশংসা করেছে।
কমেডির স্বাধীনতা বনাম আইনি জটিলতা
কমেডির স্বাধীনতা কোথায় শেষ হওয়া উচিত? এই প্রশ্নের জবাবে হিরানি জানান, আইনিভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল কারণ পুরোটাই নির্ভর করে প্রেক্ষাপটের (Context) উপর। ভারত এক বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও রাজনৈতিক আদর্শের মানুষ থাকেন, তাই কোনও না কোনও বিষয়ে কারও না কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগা প্রায় স্বাভাবিক।
সেলিব্রিটিদের চ্যালেঞ্জ ও এআই (AI) বিতর্ক
শাহরুখ খান ও রানা দগ্গুবতীর মতো তারকাদের আইনি পরামর্শদাতা হিরানি আরও বলেন, তারকাদের ক্ষেত্রে যেকোনো বিতর্কেই 'মিডিয়া ট্রায়াল'-এর একটা বড় ঝুঁকি থাকে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলে। এছাড়া বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিপফেকের কারণে তারকাদের 'পার্সোনালিটি রাইটস' বা ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সময়ের মতো তারকাদের ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভিটি বজায় রেখে বিতর্কমুক্ত থাকা এখন এক কঠিন পরীক্ষা।

