দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ তিনি। ছোটপর্দা থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার প্রচেষ্টা থামাননি বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও গত কয়েক বছরে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা 'বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ফিল্মস'-এর ব্যানারে একের পর এক নতুন কাজও এসেছে দর্শকদের সামনে।
তবে এবার একটি বহুল প্রতীক্ষিত ওটিটি প্রজেক্টকে ঘিরে সামনে এল চাঞ্চল্যকর খবর।
জি ফাইভ বাংলার আসন্ন সিরিজ 'তারকাটা' থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ফিল্মস। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিরিজের টিজার দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি করেছিল। দীর্ঘদিন পর বিক্রমকে দেখা গিয়েছিল তাঁর পরিচিত রোম্যান্টিক ইমেজের বাইরে এক আলফা ম্যান চরিত্রে। পরিচালনায় রয়েছেন শমীক রায়চৌধুরী। সবকিছু যখন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই সামনে এল এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।
বিক্রমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কিছু অপ্রত্যাশিত সৃজনশীল মতপার্থক্যের জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু প্রযোজকের পদ থেকেই নয়, প্রজেক্টটির সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার সমস্ত ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ফিল্মস।
তবে দর্শকদের জন্য রয়েছে স্বস্তির খবরও। প্রযোজনা সংস্থা সরে গেলেও অভিনেতা হিসেবে 'তারকাটা'-র সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থাকছেন বিক্রম। পূর্ব নির্ধারিত শুটিং ও প্রচার-সংক্রান্ত সমস্ত দায়বদ্ধতাও তিনি পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে। সিরিজে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। পাশাপাশি দেখা যাবে ম্যায়াং চ্যাং, সত্যম ভট্টাচার্য-সহ একাধিক পরিচিত মুখকে।
টিজার প্রকাশের পর এমন একটি সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রযোজক বদলের ফলে সিরিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, মুক্তির সময়সূচি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে কিছু প্রযুক্তিগত ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। সেই কারণেই দর্শক, সহযোগী সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছে বিক্রমের টিম। খুব শীঘ্রই পরবর্তী আপডেট জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
টলিপাড়ার অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। টিজার প্রকাশের পর কোনও প্রজেক্ট থেকে প্রযোজকের সরে দাঁড়ানো বাংলা বিনোদন জগতে খুব একটা দেখা যায় না। ফলে পর্দার আড়ালে ঠিক কী ধরনের সৃজনশীল মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েই এখন কৌতূহল বাড়ছে স্টুডিওপাড়ায়। 'তারকাটা'র ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকছে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির।

