Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনীতি করেছেন, বাধা দিইনি, আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? প্রশ্ন হাসিনার

তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনীতি করেছেন, বাধা দিইনি, আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? প্রশ্ন হাসিনার

THE WALL 1 week ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ অগস্ট দিল্লিতে তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনের জেরে তারেক রহমানের ভারত সফর স্থগিত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দিল্লির অনুষ্ঠানে আমি আমার দেশের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বরং দেশ রক্ষার কথা বলেছি। আমি বুঝতে পারছি না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার কেন ওই অনুষ্ঠানকে দু'দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইস্যু করছে।

এ মাসের মাঝামাঝি তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনায় ঢাকার তরফে ইতি টেনে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লিগ নেতাদের উপস্থিতিতে হতে যাওয়া একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুলিশ অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঢাকা ইতিবাচক বলে মনে করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন এই সিদ্ধান্ত তারা ইতিবাচক বলে মনে করছেন। ‌এরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা সম্পর্কেও আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর কথায় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ভারতের একটি ইংরিজি দৈনিকে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী হাসিনা বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতি করবেন না বলে ২০০৭ সালে (বাংলাদেশ তখন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়) মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু লন্ডনে গিয়ে তিনি রাজনীতি শুরু করেন। সেখান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালান। এমনকী তাঁর মা খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক রহমান বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন লন্ডনে বসে।ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসভা ও দলীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার কখনও তাকে বাধা দেয়নি। আমি কি ব্রিটিশ সরকারকে আমার দেশের একজন পলাতক ব্যক্তিকে এ ধরনের সভা করা থেকে বিরত থাকতে বলেছি? আমি কখনও এমন অভিযোগ করিনি।

অথচ আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই যত আপত্তি। আওয়ামী লিগ নেত্রীর কথায়, তাঁর দিল্লির সাংবাদিক সম্মেলনকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যুক্ত করা মোটেই কাঙ্খিত নয় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী। তিনি বলেন দুটি দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় যখন বিপন্ন হয় গণতন্ত্র।

হাসিনা তাঁর প্রত্যাবর্তনে তারেক রহমানের সরকারের আপত্তি নিয়েও জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য নয়, দেশবাসীর পাশের দাঁড়াতে দেশে ফিরতে চাই। আজীবন আমি বিদেশে থাকতে পারি না। ‌বিশেষ করে আমার দেশ যখন বিপন্ন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লিগের নেতা ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও অত্যাচার করা হচ্ছে এবং তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে—এর শুরুটা করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস এবং বিএনপি সেটা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কোনও দিন যায় না যেদিন মানুষ খুন হয় না।

আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেন, রংপুরের কথাই ধরুন, যেখানে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, আর বগুড়া শহরে আমাদের যুব শাখার এক সদস্যকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে। দিনরাত তারা আমাদের দলের লোকদের হত্যা করছে, গ্রেফতার করছে অথবা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। তারা বাড়িতে ঢুকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ওপর হামলা চালাচ্ছে, বয়স্কদের মারধর ও হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে, আমার প্রত্যর্পণ (সরকারিভাবে তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে সমর্পণ) কীভাবে একটি শর্ত হতে পারে, তা আমি বুঝতে পারছি না।

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও বলেছেন, আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি, আমি বুঝতে পারছি না তিনি (তারেক রহমান) কেন এতে আপত্তি করছেন। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে কথা বলছেন। অথচ, আমি নিজের ইচ্ছায় আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাবই। আমি কি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার আপনজনদের কাছে ফিরতেই হবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall