দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্বিষা শর্মার মৃত্যুকাণ্ডের তদন্তে একদিকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর উপর হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে মামলার দুই প্রধান অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল বিশেষ সিবিআই আদালত। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং এবং তাঁর ছেলে সমর্থ সিংকে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে ভয় দেখানো ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মঙ্গলবার পাঁচ দিনের সিবিআই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে সমর্থ ও গিরিবালাকে আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা আর কোনও অতিরিক্ত হেফাজতের আবেদন না জানিয়ে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আর্জি জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত দু'জনকেই ১৬ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাঁদের ভোপাল সেন্ট্রাল জেলে রাখা হবে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যান্য বন্দিদের থেকে দূরত্ব থাকবে।
এর মধ্যেই মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী নীরজ দুবের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে মঙ্গলবার সকালে। ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার বাসিন্দা নীরজের দাবি, গত ৩০ মে সমর্থ সিংয়ের কয়েকজন বন্ধু তাঁর উপর চড়াও হয় এবং আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। নীরজের অভিযোগ, নিজের সেলুনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চার থেকে পাঁচ জন তাঁকে ঘিরে ধরে। কটূক্তি করা হয় এবং ত্বিষা শর্মা মামলায় সাক্ষী কেন হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবাদ করতেই এই দলটি তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর তিনি কাটারা হিলস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ত্বিষা শর্মাকে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পণ-নির্যাতনের জেরে মৃত্যু হয়েছে তরুণীর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুই অভিযুক্তকে নিয়ে তাঁদের কাটারা হিলসের বাড়িতে যায় সিবিআই। সেদিন রাতে কী ঘটেছিল, তা পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। এদিকে সাক্ষীর উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের নিরাপত্তা ও সাক্ষী সুরক্ষা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

