দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) ইউনিটে ধর্মান্তকরণ এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য (Nashik TCS religious conversion probe)। এক কর্মীকে মাদক মেশানো 'শির খুরমা' খাইয়ে বিভ্রান্ত করার মতো তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ফলে হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে বড়সড় ব্রেক-থ্রু পেল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
তদন্তে অন্যতম বড় বাধা ছিল মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখের মোবাইল ফোন। ফোনের প্রতিটি ফাইল এবং অ্যাপ্লিকেশন আলাদা পাসওয়ার্ড ও ফেস আইডি (Face ID) দিয়ে লক করা ছিল। ফলে ফরেনসিক ল্যাবে কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করেও কোনও তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্ত দানিশকে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর 'ফেস স্ক্যান' করিয়ে ফোনটি আনলক (Danish Sheikh Face ID unlock) করা হয়।
মনে করা হচ্ছে, এই ফোনের এনক্রিপ্টেড তথ্য থেকেই ধর্মান্তকরণ চক্রের ডিজিটাল প্রমাণ মিলবে (Nashik religious conversion racket)।
এক নির্যাতিত কর্মী পুলিশকে জানিয়েছেন, ইদের দিন অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তারের বাড়িতে 'শির খুরমা' খাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড নেশাগ্রস্ত ও দিশেহারা বোধ করতে থাকেন। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁর পারিবারিক সমস্যাকে 'কালো জাদু'র প্রভাব বলে ভয় দেখানো হয়। আধ্যাত্মিক সমাধানের নাম করে তাঁকে দিয়ে ধর্মীয় কাজ করানো হয় এবং সেই ভিডিও ও ছবি তুলে রাখা হয়।
পরবর্তীতে সেই ছবি 'TCS Nashik' হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। এমনকি ওই কর্মীকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করতে তাঁর অফিসের ঊর্ধ্বতনদের কাছে ভুয়ো নেতিবাচক কাজের রিপোর্ট পাঠানো হতো।
ধর্মান্তকরণ ছাড়াও এই ঘটনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে নারী নিগ্রহের অভিযোগ। অফিসের একাধিক মহিলা সহকর্মী ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন। এখনও পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ধৃত ৭ জনকেই সাসপেন্ড করেছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ এখন সেই হোটেল এবং দোকানের খোঁজ চালাচ্ছে, যেখান থেকে ওই কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং ধর্মীয় টুপি কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসবে।
নাসিক রোড সেন্ট্রাল জেল থেকে এই চক্রের চার মূল অভিযুক্ত— তৌসিফ বিলাল আত্তার, দানিশ এজাজ শেখ, শাহরুখ হোসেন শৌকত কুরেশি এবং রাজা রফিক মেমনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মুম্বই নাকা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তারা পুলিশি হেফাজতে থাকবে। এই সময়ের মধ্যে এই ধর্মান্তকরণ চক্রের পিছনে কোনও বড় নেটওয়ার্ক বা বিদেশি অর্থায়ন কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিট।

