দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরিব মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণের ত্রিপল বিলি না করে নিজের বাড়িতে মজুত করার অভিযোগ। এবার ত্রিপল কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিল্পাঞ্চলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার দুস্থ মানুষদের জন্য সরকারিভাবে যে ত্রিপল পাঠানো হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি বলেই অভিযোগ ওঠে। উল্টে সেই বিপুল পরিমাণ ত্রিপল কাউন্সিলরের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে খবর পায় পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশবাহিনী তরুণ চক্রবর্তীর বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। উদ্ধার হয় স্তূপাকার সরকারি ত্রিপল। এই দুর্নীতির অভিযোগে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়।
শুধু ত্রিপল কেলেঙ্কারিই নয়, ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এলাকায় অবৈধ বালি কারবার এবং তোলাবাজির সিন্ডিকেটের সঙ্গেও নাম জড়িয়েছে এই তৃণমূল নেতার। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "সমস্ত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ইতিমধ্যেই ধৃত তৃণমূল নেতাকে জেরা শুরু করেছে পুলিশ। সরকারি এই সম্পদ কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত হেফাজতে এল, তার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আজ, মঙ্গলবারই ধৃত তরুণ চক্রবর্তীকে আসানসোল আদালতে তোলা হবে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে বলে খবর।
অন্যদিকে ত্রান বন্টন দুর্নীতি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কালনাতেও। সরকারি ত্রাণ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেন নাদনঘাট থানার আধিকারিকরা। এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক দিন আগে একই মামলায় কালনা ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রণব রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দেবপ্রসাদ বাগের নাম উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
অভিযোগ, পুলিশ বাড়িতে পৌঁছনোর পরও দীর্ঘ সময় দরজা খোলা হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, দেবপ্রসাদ বাগ বাড়ির ভিতরেই ছিলেন কিন্তু তাঁদের ডাকে সাড়া দেননি। ফলে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে হয় পুলিশকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় বাড়ির অন্য একটি দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দেবপ্রসাদ বাগ। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পালানোর আগেই তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়দের একাংশ। প্রাক্তন বিধায়ককে লক্ষ্য করে 'চোর, চোর' স্লোগান শোনা যায়। কোনও রকম বিশৃঙ্খল এড়াতে সতর্ক ছিল পুলিশ।

