দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ জারমাঁ (PSG) আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। বায়ার্ন মিউনিখের (Bayern Munich) মাঠে ১-১ ড্র করে শেষ চারের লড়াই জিতে নিল লুইস এনরিকের দল (Luis Enrique)। দুই লেগ মিলিয়ে ফল ৬-৫। ফাইনালে প্রতিপক্ষ আর্সেনাল (Arsenal)। ৩০ মে বুদাপেস্টে হবে ইউরোপের সেরা ক্লাবের মুকুট নির্ধারণ (UCL Final 2026)।
শুরুতে ডেম্বেলের গোল, চাপে বায়ার্ন
প্যারিসে প্রথম লেগে ৫-৪ জয়ের পর অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় (Allianz Arena) নামার আগে কিছুটা এগিয়ে ছিল পিএসজি। দ্বিতীয় লেগে শুরুতেও ম্যাচের গতি নিজেদের হাতে নেয় ফরাসি ক্লাব। ম্যাচের তিন মিনিটও হয়নি, তার আগেই গোল! মাঝমাঠ থেকে ফাবিয়ান রুইজের থ্রু পেয়ে বাঁ-দিক দিয়ে উঠে আসেন খাভিচা কাভারৎস্কেলিয়া। গতি দিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটান। এরপর কাট-ব্যাক। যা পৌঁছে যায় উসমান ডেম্বেলের (Ousmane Dembele) পায়ে। সেখান থেকে জোরালো শটে গোল করেন ফরাসি উইংগার। এর সুবাদে টাইয়ে দুই গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি (Champions League)।
প্রথমার্ধে বায়ার্ন বলের দখল রাখলেও আক্রমণে ধার ছিল না। মাইকেল অলিসে, হ্যারি কেন (Harry Kane), যশুয়া কিমিখ—একের পর এক ভুল পাসে নষ্ট হয় সম্ভাবনা। এর মধ্যে জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগা নিয়ে পেনাল্টির দাবি তোলে বায়ার্ন। কিন্তু রেফারি জোয়াও পিনেইরো সেই আর্জি নাকচ করেন। নুনো মেন্ডেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না পাওয়াতেও ক্ষুব্ধ ছিল জার্মান ক্লাব (Football News Bangla)।
কাউন্টার অ্যাটাকে ভয়ঙ্কর পিএসজি
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার চরিত্র কিছুটা বদলায়। পিএসজি রক্ষণ একটু নিচে নামিয়ে বায়ার্নের চাপ সমলালেও পাল্টা আক্রমণে সমান বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ম্যানুয়েল ন্যয়ার একাধিক দুরন্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। কাভারৎস্কেলিয়া ও দেজিরে ডুয়ের একাধিক শট আটকে দেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক (UCL Updates)।
অন্যদিকে বায়ার্ন বলের দখল রাখলেও গোলের সামনে নিস্তেজ। জামাল মুসিয়ালা একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। পরে মাতভেই সাফোনভ তাঁর শট বাঁচান। শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত সময়ে হ্যারি কেন গোল করে ব্যবধান কমালেও সেটা ছিল সান্ত্বনার। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দলকে জেতাতে না পারলেও টানা সাতটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল করার নজির গড়লেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক (Sports News Bangla)।
ফাইনালে আর্সেনাল, ইতিহাসের সামনে পিএসজি
গত মরসুমে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল পিএসজি। এবার তারা আরও একবার ট্রফির সামনে। ১৯৯০ সালের পর রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়া আর কোনও ক্লাব পরপর দু'বার এই প্রতিযোগিতা জিততে পারেনি। এখন সেই তালিকায় নাম তোলার সুযোগ লুইস এনরিকের দলের সামনে। ম্যাচ শেষে দেজিরে ডুয়ে বলেন, 'এটা অসাধারণ লড়াই ছিল। ছোটবেলা থেকে এ ধরনের ম্যাচে নামার স্বপ্ন দেখেছি। এখন আমরা দল হিসেবে মুহূর্তটা উপভোগ করব (Football Updates)।'
অন্যদিকে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির গলায় একরাশ হতাশা। বলেছেন, 'খুব জোরদার লড়াই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা হেরে গিয়েছি। তবে এই গ্লানি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চাই না (Vincent Kompany)।'
চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মরসুমে পিএসজির আক্রমণভাগই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই ধার নিয়েই তারা ফাইনালে আর্সেনালের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।

