দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল শেষ হওয়ার পর যে ছবিটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, সেটা কোনও ট্রফি উঁচিয়ে ধরার উল্লাস নয়। (Mikel Arteta) মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের বিষাদঘন মুখ। (Gabriel Magalhaes) পাশে এসে তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন পিএসজি অধিনায়ক মারকিনিয়োস।
(Champions League) দু'জনই ব্রাজিলের জাতীয় দলের সতীর্থ। (Football News Bangla) কিন্তু সেই মুহূর্তে একজন ইউরোপ-সেরা দলের নেতা, অন্যজন পরাজিত দলের সদস্য। (Sports Updates Bangla)
টাইব্রেকারে গ্যাব্রিয়েলের শট উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। যা শেষ পর্যন্ত ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে। পেনাল্টিতে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব হাতে তোলে পিএসজি। অন্যদিকে মিকেল আর্তেতার দলের ইউরোপ-বিজয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।
কেরিয়ারের প্রথম পেনাল্টিই কাল হল
টাইব্রেকারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য, আর্সেনাল জার্সিতে এই প্রথম পেনাল্টি নিলেন গ্যাব্রিয়েল। ম্যাচের পর কোচ মিকেল আর্তেতা অবশ্য একে কারণ হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ। জানিয়েছেন, পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ডিফেন্ডার। আর্তেতার মন্তব্য, 'ও নিজেই পেনাল্টি মারতে চেয়েছিল। সাধারণত আমাদের পেনাল্টিটেকার বুকায়ো সাকা, মার্টিন ওডেগার্ড এবং কাই হাভার্ৎজ। কিন্তু জানতাম, ম্যাচ যদি অতিরিক্ত সময়ে যায়, তাহলে অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে!' সাহস দেখিয়ে দায়িত্ব তুলে নেন গ্যাব্রিয়েল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই তাঁর দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
আর্সেনালের ডিফেন্সের স্তম্ভ
ফাইনালের শুরুটা অবশ্য আর্সেনালের পক্ষে ছিল। ম্যাচের ছয় মিনিটে কাই হাভার্ৎজ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় পিএসজির আক্রমণ সামলেছে আর্সেনাল রক্ষণ। সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্যাব্রিয়েলের। পুরো ম্যাচে ১৩টি ক্লিয়ারেন্স করেন তিনি, যা মাঠে থাকা যে কোনও ফুটবলারের মধ্যে সর্বাধিক। খাভিচা কাভারৎস্কেলিয়া, উসমান ডেম্বেলে এবং ডেজিরে ডুয়ের মতো তারকাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। ৬২ মিনিটে ডেম্বেলের পেনাল্টি গোলে সমতা ফেরে। এরপর ম্যাচ ধীরে ধীরে টাইব্রেকারের দিকে এগোয়।
সতীর্থদের পাশে থাকার বার্তা
শুটআউটে প্রথম ধাক্কা খায় আর্সেনাল। এবেরেচি এজে গোল করতে ব্যর্থ হন। পরে ডেভিড রায়া নুনো মেন্ডেসের শট বাঁচিয়ে সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েলের মিসই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়। লড়াই শেষে ডেকলান রাইস বলেন, 'পেনাল্টি মিস করা ভাল লাগার বিষয় নয়। কিন্তু আমরা ওদের পাশে আছি। ফুটবলে এমনটা হতেই পারে। এটাই শেষ নয়।'যোগ করেন, 'গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে বলার মতো শব্দ ফুরিয়ে গেছে। মানুষ হিসেবে, ফুটবলার হিসেবে—ও অসাধারণ। ও আর এজে না থাকলে আমরা প্রিমিয়ার লিগ জিততেই পারতাম না।'
ফাইনালের পর চোখের জল মুছতে দেখা যায় গ্যাব্রিয়েলকে। একথা সত্যি, যে কিন্তু একটি পেনাল্টি মিস পুরো মরসুমের মূল্যায়ন বদলে দিতে পারে না। ২০১৯ সালে আর্তেতার আমলে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাবের পুনর্জাগরণের অন্যতম মুখ। চলতি মরসুমে ৬৩ ম্যাচের মধ্যে ৪৮-টিতে শুরু থেকে খেলেছেন। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে নয় ম্যাচে প্রভাব ফেলেছেন। যা মার্টিন ওডেগার্ড এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুসের চেয়েও বেশি! সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে ৯৬ মিনিটে তাঁর জয়সূচক গোল এখনও সমর্থকদের মনে সজীব। সেই কারণে ফাইনালের ব্যর্থতার পরও সতীর্থ, কোচ এবং সমর্থক—সকলেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

