দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে বিধানসভার নির্বাচন যথাসময়ে হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে ভোটগ্রহণ সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ আছে ২২ মে পর্যন্ত। তবু ভোট এগনো বা পিছনো কোনটাই হচ্ছে না।
নয়া ভাবনা অনুযায়ী বিধানসভা নির্বাচনের আরও মাস ছয়েক বাকি থাকলেও এখনই উত্তরপ্রদেশে প্রচারের ময়দানে নামতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তাঁর জন্মদিনে উত্তরপ্রদেশে জনসভা করে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সূচনা করবেন। জানা যাচ্ছে প্রথম সভাটি প্রধানমন্ত্রী করবেন অযোধ্যায়। সেখানে রাম মন্দিরের দানপাত্রের অর্থ তছরূপের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় তদন্ত অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা চম্পত রাইকে ক্লিন চিট দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তৈরি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম।
হালে জল্পনা শুরু হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে এনে অক্টোবর নভেম্বরে করা হবে। দেশব্যাপী জনগণনার কাজ শুরু হওয়ায় ভোটের সময় পরিবর্তনের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল।
জানা যাচ্ছে ভোট এগনোর ভাবনায় সায় নেই যোগী আদিত্যনাথ সরকারের। রাজ্য সরকার চাইছে নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন হোক। সেই কারণেই মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ঠিক হয়েছে উত্তরপ্রদেশে আলাদা করে জনগণনার কাজ কিছুটা এগিয়ে আনা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ করতে রাজ্য সরকারের তরফে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রশাসনের একাংশ ওই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত শঙ্কিত। তাদের বক্তব্য জনগণনার পর আবার বিধানসভা নির্বাচনের কাজে প্রশাসনকে নামাতে রীতিমত বেগ পেতে হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের পরীক্ষা হবে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিজেপি দলীয়ভাবে নির্বাচন এগিয়ে আনার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। সমাজবাদী পার্টি কংগ্রেস এবং বহুজন সমাজ পার্টিসহ প্রায় সব দলই নভেম্বর ডিসেম্বরে বিধানসভা ভোটের পক্ষে সায় দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার বেঁকে বসায় ভোট নির্দিষ্ট সময়ে হচ্ছে।
যোগী সরকার কেন ভোট এগতে রাজি নয়? জানা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার মনে করছে এই মুহূর্তে রাজ্যের পরিস্থিতি সরকার তথা শাসকদলের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। দিল্লিতে জেন-জি আন্দোলনের পর রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছে উত্তর প্রদেশ। এখানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে সমাজের নানা অংশের মানুষের আন্দোলন বেড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির বাইরে এই সব আন্দোলনের ফায়দা বিরোধীরা পাবে বলে সরকার মনে করছে। সূত্রের খবর যোগী সরকার চাইছে আগামী দু-তিন মাস পরিস্থিতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে। এ জন্য দলীয় পতাকাবিহীন আন্দোলন গুলি মোকাবিলায় প্রশাসনকে অত্যন্ত মানবিক হতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় এক ডজন আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসন বলপ্রয়োগ করেনি তাই শুধু নয়, দ্রুততম সময়ে দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হয়।
নিট কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত দিল্লির আন্দোলনের পর এখন শুরু হয়েছে সংরক্ষণ বিরোধী প্রচার। দিল্লিতে একাধিক সংগঠন সংরক্ষণ বিরোধিতায় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সেই আন্দোলনের মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের তরুণ-তরুণীরা। এই বিষয়টিও যোগী সরকারকে ভাবাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর, এই ব্যাপারে ভারত সরকার রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। এখনই সাধারণ ক্যাটাগরির জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তা আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের জন্যই বরাদ্দ। এই সংরক্ষণের মাত্রা বৃদ্ধির ভাবনাচিন্তা চলছে প্রশাসনের অন্দরে।

