দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবল মাঠের উত্তাপ চড়তে চড়তে এবার রাজনীতির কদর্য আঙিনায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স (FIFA World Cup 2026)। আর তার পরেই বিতর্কের সূত্রপাত। ম্যাচ শেষে বিপক্ষ গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন কিলিয়ান এমবাপে।
শুধু তাই নয়, গিলের মুখের ওপর নাকি চিৎকারও করেন তিনি।
এই ঘটনার পরেই আসরে নামেন প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্টে আমারিলা। শুরু হয় কথার লড়াই। ফরাসি তারকা এই নেত্রীকে 'ঘৃণ্য ও অপদার্থ' বলায় পারদ দ্বিগুণ হয়। বুধবার শালীনতা ও ভব্যতার সমস্ত সীমা ডিঙিয়ে খাস সেনেটের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এমবাপেকে 'বেশ্যার ছেলে' বলে আক্রমণ করলেন তিনি (France vs Paraguay)। জনপ্রতিনিধির মুখে এমন কদর্য শব্দচয়ন ঘিরে বিশ্বজুড়ে এখন তুমুল শোরগোল।
ফরাসি সংস্কৃতির পাঠ ও বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ
সেনেটে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লিবারাল পার্টির এই নেত্রী। তীব্র ভাষায় চলে ফরাসি স্ট্রাইকারের সমালোচনা। তাঁর চাঁচাছোলা মন্তব্য, 'অরল্যান্ডো গিল ছেলেটা হয়তো জীবনে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে। ইউরোপেও হয়তো প্রথমবার। প্যারাগুয়ের সমস্ত বিনয় নিয়ে সে হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। আর এই বেশ্যার ছেলে হাত তো মেলালই না, উলটে ওর মুখের উপর চেঁচাল। এটা ফরাসিদের সংস্কৃতি হতে পারে না।'
এরপরই ফরাসি বিপ্লব ও রেনেসাঁর প্রসঙ্গ টানেন আমারিলা (World Cup Football Controversy)। বলেন, 'ফ্রান্স মানে রুশো, দেকার্ত, মন্তেস্কু, ভিক্টর হুগো এবং সিমন দ্য বোভোয়া। এই মহান দেশের সুবিশাল সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে আমি কিছুতেই এমবাপের স্তরে নামাতে রাজি নই।' এর আগে মাঠের লড়াউ শেষে প্যারাগুয়ে দলের বিরুদ্ধে গুরুতর বর্ণবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করার অভিযোগও এনেছিলেন আমারিলা।
রোনাল্ডিনহোর পরিণতি ও জেলের হুমকি
কাদা ছোড়াছুড়ি অবশ্য সেনেটের চার দেওয়ালেই আটকে নেই। এর আগে সমাজমাধ্যম এক্সে (আগে টুইটার) একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন আমারিলা। সেখানে সোজা আইনি ব্যবস্থার ধমকি। এমবাপেকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
চলতি বিতর্কে সামনে এসেছে রোনাল্ডিনহোর প্রসঙ্গও। জাল পাসপোর্ট কাণ্ডে প্যারাগুয়েতে ২০২০ সালের মার্চ মাসে জেল খেটেছিলেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি ফুটবলার। তাঁর উদাহরণ টেনে নেত্রীর রীতিমতো হুঙ্কার, 'প্যারাগুয়ের মানুষদের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে এসো না এমবাপে। আমরা কিন্তু রোনাল্ডিনহোর মতো মানুষকেও জেলে পুরেছি।'
এখানেই শেষ নয় (Kylian Mbappe News)। লিঙ্গবৈষম্য ও মহিলাদের প্রতি রাজনৈতিক হিংসার দায়ে ফরাসি ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন আমারিলা। সাফ কথা, 'আমাকে খাটো করে দেখার ভুল কোরো না। আইনি পথে হাঁটার পূর্ণ অধিকার আমার এখনও রয়েছে। ওকে আমার কাছে ক্ষমা চাইতেই হবে।'
অবিচল ফরাসি শিবির, নজর কেবল ফুটবলে
মাঠের বাইরের এই নোংরা বিতর্কে অবশ্য ফরাসি শিবিরে বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী মরক্কো। সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে দলের সেরা তারকার বিরুদ্ধে এই নজিরবিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গ। তবে ফরাসি কোচ গোটা বিষয়টি অত্যন্ত সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বাইরের এই সমস্ত আজেবাজে আলোচনা এমবাপেকে একটুও টলাতে পারেনি (France vs Morocco)। দলের ফোকাস এখন শুধুমাত্র ফুটবল।
দেশঁ বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরেই বলেন, 'কিলিয়ান মানসিকভাবে খুব ভালো জায়গায় আছে। আগামীকালের ম্যাচের জন্য ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত।' অর্থাৎ, সেনেটরের অশালীন আক্রমণ বা আইনি হুমকির তোয়াক্কা না করে, ফরাসি শিবিরের নজর এখন কেবল সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার দিকে।

