দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে পর্তুগাল (Portugal vs Spain)। মিকেল মেরিনোর অন্তিম মুহূর্তের গোলে আশাহত পর্তুগিজ বাহিনী, সমর্থক। ম্যাচ শেষে নতমুখে মাঠ ছাড়েন রোনাল্ডো। চোখের জলও লুকোননি তিনি। এটাই কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, ঘোষণা করেছিলেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা।
এবার আসর থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে দলের ফুটবলারদের গোল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি একটি পোস্ট সিআরসেভে্নের। ক্যাপশনে মাত্র দুটি শব্দ, 'পর্তুগাল সেম্প্রে', বাংলায় যার অর্থ 'পর্তুগাল চিরকাল' (Cristiano Ronaldo)। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে এখনই বিদায় জানাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য নেই। কেবল জানিয়েছেন, দেশের জার্সি গায়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চান না।
রেকর্ডের মেলা এবং এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাস
এবারের বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মন্দ ছিল না, ৫ ম্যাচে ৩টি গোল। গ্রুপ পর্বে কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল (Portugal vs Uzbekistan)। সেই খেলায় জোড়া গোল করে ইউসেবিওকে টপকে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোলের মালিক হন সিআরসেভেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার নজিরও গড়েন।
এরপর রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ জয়ের দিনে ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সি গোলদাতার রেকর্ড নিজের ঝুলিতে পোরেন তিনি। কিন্তু অন্তিম ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে ১৭টি শট নিয়েও সতীর্থদের জন্য একটিও সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ রোনাল্ডো, যা খোদ তাঁর নামের পাশে অনভিপ্রেত রেকর্ড। দীর্ঘ বিশ্বকাপ কেরিয়ারে ২৭ ম্যাচে ১১ গোল করেই থামতে হল পর্তুগিজ কিংবদন্তিকে।
নিউ ইয়র্কের মাঠে নেইমারের আন্তর্জাতিক সন্ন্যাস
অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রতিনিধি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে চরম হতাশায়। শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা (Brazil vs Norway)। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে সেলেসাওদের দ্রুততম প্রস্থান। চরম বিপর্যয়! যার পরেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে তিনি জানান, 'আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। এবার সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম!'
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে এই মাঠে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক নেইমারের। দীর্ঘ তিন বছর চোটের কারণে দলের বাইরে থাকার পর কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছিলেন। চলতি আসরে কেবল দু'টি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নরওয়ের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি গোল করেন তিনি।
ক্লাব কেরিয়ারও কি শেষের মুখে?
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর নেইমারের ক্লাব কেরিয়ারও কি এবার ইতি টানতে চলেছে? ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ছেলেবেলার ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে তাঁর চুক্তির আর মাত্র ৬ মাস বাকি (Neymar Retirement News)। সান্তোস কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভবিষ্যতের কথা ভাবার জন্য আপাতত ছুটি দিয়েছে।
এরই মধ্যে জল্পনা বাড়িয়েছে নেইমারের বাবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট। তিনি লিখেছেন, 'একজন বাবা হিসেবে আমি একটা অনুরোধ করতে চাই। নেই, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। পায়ে বল থাকার আনন্দটা আবার অনুভব করো। মাঠে আবার হাসো।'
পাকাপাকিভাবে বুটজোড়া তুলে রাখবেন কি না, সেই গুঞ্জন চলতেই থাকবে। তবু ২০২৬ সালের এই মেগা বিশ্বকাপ বিশ্বফুটবলের দুই তারকার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে এক চরম ট্র্যাজিক যবনিকা টেনে দিল, যা সহজে ভোলা অসম্ভব (FIFA World Cup 2026)।

