দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিশরের ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। আড়াআড়ি বিভক্ত ফুটবলবিশ্ব। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। কিন্তু নেপথ্যে ঘনীভূত বিতর্ক। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় নিয়ে প্রকাশ্যে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ।
ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও।
সেখানে রেফারির অন্তত ১০টি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। মোদ্দা দাবি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে অন্তত দু'বার করে হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল। ছাড় পেয়েছেন রদ্রিগো ডি পল, হুলিয়ান আলভারেজ এবং নিকোলাস গঞ্জালেসও। ফাউল করা হলেও ফ্রি-কিক জোটেনি মহম্মদ সালাহর। উলটে তাঁর বিরুদ্ধেই বিতর্কিত ফাউলের বাঁশি বাজে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগে সালাহকে করা ফাউলটি এড়িয়ে যান রেফারি। সঙ্গে মোস্তফা জিকোর সেই বাতিল গোল তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে রেফারিং আতসকাচের তলায়।
২-০ লিড এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
ম্যাচের চিত্রনাট্য রোমাঞ্চকর। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেড। এগিয়ে যায় মিশর। এরপর লিওনেল মেসির পেনাল্টি রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবির।
দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট জারি। ৬৭ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ। সালাহ ও হাইসেম হাসানের যুগলবন্দি। গোল জিকোর। ২-০ লিড। ফারাওরা তখন ঐতিহাসিক অঘটনের দোরগোড়ায়। মনে হচ্ছিল আর্জেন্তিনার বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল। কিন্তু শেষলগ্নে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে রোমেরোর হেড। ঠিক চার মিনিট পর মেসির সমতাসূচক আঘাত। আর ইনজুরি টাইমে এনজোর জয়সূচক ভলি। ৩-২ ব্যবধানে শেষ আটে আর্জেন্তিনা।
কিন্তু এই মহাকাব্যিক কামব্যাককেই খেলাশেষে 'ছিনতাই' বলে দেগে দেয় গোটা মিশর শিবির।
ক্ষুব্ধ কোচের বিশ্বকাপ বয়কট
ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের হেড কোচ হোসাম হাসান। চরম হতাশায় তিনি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, টুর্নামেন্টে কোনও 'ফেয়ার প্লে' বা সুবিচার নেই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাসান বলেন, 'আর্জেন্তিনার এই জয় একেবারে প্রাপ্য নয়। কথা দিচ্ছি, আজ ফেরার পর এই বিশ্বকাপের আর কোনও ম্যাচ আমি দেখব না। কারণ এখানে কোনও বিচার নেই। এই আমার ব্যক্তিগত প্রতিবাদ।'
ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ক্ষুব্ধ কোচের সংযোজন, 'আমাদের জেতার অধিকার ছিল। আমি 'মন্দ ভাগ্য' বলতে রাজি নই। আমরা সসম্মানে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু ফলাফলের ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটানো হয়েছে। ফিফা যে ফেয়ার প্লে-র কথা বলে, এ তার ধারেকাছেও নেই। আজ মাঠে সম্মান বা ফেয়ার প্লে, কিছুই ছিল না।'
জিকোর তোপ
হাসান এখানেই থামেননি। সরাসরি বাহ্যিক প্রভাবের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্যই এই চক্রান্ত। কোচের বিস্ফোরক বয়ান, 'আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে সবদিক থেকে ভাল খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের এবং বাইরের কিছু কারণ ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে। হয়তো ওরা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুক। হয়তো ওরা চেয়েছিল মেসি এই দৌড়ে থাকুক।'
মিশর কোচের আক্ষেপ, ফুটবলে মাঝেমধ্যে কারিগরি দিক ছাপিয়ে বাইরের প্রভাব বড় হয়ে ওঠে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তরে সাহায্য পেয়েছে। বাতিল গোলের শিকার জিকোও ফুঁসছেন। তাঁর জোরালো দাবি, গোটা ম্যাচে রেফারিং আদৌ নিরপেক্ষ ছিল না। 'স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অবিচার' করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ ফরোয়ার্ডের কথায়, 'এই টুর্নামেন্ট আগে থেকেই ফিক্সড।'
এতকিছুর পর ভাইরাল ভিডিও। যেখানে স্পষ্ট নথিবদ্ধ পক্ষপাতের নজির। নিঃসন্দেহে বিতর্কের জল আরও অনেক দূর গড়াতে চলেছে।

