দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠের বাইরের রাজনৈতিক দাদাগিরি যে মাঠের ভেতরের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে কাজে আসে না, সিয়াটলের মাটিতে বুঝিয়ে দিল বেলজিয়াম (Belgium vs USA)। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ খবরদারি এবং ফিফার নতজানু অবস্থানের জেরে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের মতো নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী ছিল ফুটবলবিশ্ব (FIFA World Cup 2026)।
কিন্তু সেই বিতর্কের বিন্দুমাত্র রেশ পড়ল না বেলজিয়ামের খেলায়। বরং, মাঠের লড়াইয়ে আয়োজক আমেরিকাকে রীতিমতো ল্যাজে খেলাল তারা। চার্লস ডি কেটেলায়েরের জোড়া গোল, হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুর একটি করে গোলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে অনায়াসে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল রেড ডেভিলসরা (World Cup Knockout Stage)।
ট্রাম্পের জাদুমন্ত্রে মাঠে নামার সুযোগ পেলেও বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণের সামনে কার্যত খাবি খেলেন বালোগান। শেষ আটে এবার বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন (Belgium vs Spain Quarter Final)।
শুরুর ধাক্কা ও বেলজিয়ামের বিধ্বংসী মেজাজ
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে বেলজিয়াম। সিয়াটলের দর্শকদের স্তব্ধ করে মাত্র নবম মিনিটেই লিড নেয় তারা। নিকোলাস রাসকিনের মাপা পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ডি কেটেলায়ের (Charles De Ketelaere Goal)। চলতি বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ হিসেবে এটাই আমেরিকার দ্রুততম গোল হজমের রেকর্ড।
৩১ মিনিটের মাথায় অবশ্য কিছুটা ভাগ্যের জোরে সমতায় ফেরে আয়োজক টিম। মালিক টিলম্যানের নেওয়া ফ্রি-কিক বেলজিয়ামের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে সোজা জালে ঢুকে যায় (Malik Tillman Goal)। কিন্তু আমেরিকার এই উচ্ছ্বাস মাত্র দু'মিনিটের। এরপরই লিয়ান্দ্রো ট্রোসারের দুর্দান্ত ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বেলজিয়ামকে ফের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডি কেটেলায়ের। প্রথমার্ধ এখানেই শেষ।
গোলরক্ষকের আত্মঘাতী ভুল ও খাদের কিনারা
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মাঝমাঠের সম্পূর্ণ রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় বেলজিয়াম। আর ঠিক সেই সময়েই, ৫৭ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের সামনে মারাত্মক ভুল পাস করে বসেন আমেরিকার গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস। মাঝপথে সেই বল কার্যত ছিনিয়ে নিয়ে দুরন্ত দূরপাল্লার শটে গোল করেন বদলি হিসেবে নামা হান্স ভানাকেন। স্কোরলাইন ৩-১ হয়ে যাওয়ায় আমেরিকার ম্যাচে ফেরার শেষ আশাটুকুও কার্যত নিভে যায়। এর ঠিক দু'মিনিট পর, ৫৯ মিনিটে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে পুরোপুরি খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়ায় আয়োজকরা। একের পর এক রক্ষণভাগের ভুলে পোচেত্তিনোর ছেলেদের অবস্থা তখন রীতিমতো শোচনীয়।
কফিনে শেষ পেরেক লুকাকুর
মাঠের বাইরে প্রবল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালোগানকে মাঠে নামানো হলেও, আদতে ব্যর্থ। ৮২ মিনিটে তিনি একটি জোরালো শট নিলেও, তা অনায়াসে রুখে দিয়ে আমেরিকাকে চরম হতাশ করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া।
অন্যদিকে, নিরাপদ লিড পেয়েও আক্রমণের ঝাঁঝ একটুও কমায়নি বেলজিয়াম। ৬৭ মিনিটে জোড়া গোল করা নায়ক ডি কেটেলায়েরকে তুলে নিয়ে রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান কোচ রুডি গার্সিয়া। আর ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে অর্থাৎ ৯৩ মিনিটে আমেরিকার কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন পরিবর্ত স্ট্রাইকার। নিখুঁত প্রতি-আক্রমণ থেকে বল জালে জড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত। দিনের শেষে ট্রাম্পের অবৈধ খবরদারির চরম জবাব দিয়ে মাথা উঁচু করেই শেষ আটের মহারণে পা রাখল বেলজিয়াম।

