দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট পরবর্তী হিংসা, রিগিং এবং এসআইআর (SIR) সহ একাধিক ইস্যুর বিরোধিতা করে মঙ্গলবার পথে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তিনি। আর সেখান থেকেই বিজেপিকে উৎখাত করার বার্তা দিলেন। মমতার হুঙ্কার, ''বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।
বিজেপিকে সরিয়েই ছাড়ব।''
ওয়াই চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ডাকা ধর্না কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের মনোবল বাড়িয়েই বড় আশ্বাসবার্তা দেন দলের নেত্রী। বলেন, ''বেআইনিভাবে দলের বিধায়ক, কাউন্সিলর, দলীয় প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি থেকে বেরোতে দিচ্ছে না, ভয় দেখিয়ে রেখেছে। কিন্তু আমরা ভয় পাব না। পথে নেমে লড়াই করব, আর ভবিষ্যতে লড়াই চালিয়ে যাব। সংবিধানের প্রতিটা শব্দকে রক্ষা করব।''
সোমবার ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই ভিডিও বার্তায় তাঁর অভিযোগ ছিল, ভয়, প্রলোভন এবং প্রশাসনিক চাপকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দল ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই - তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করা এবং দলের মধ্যে ভাঙন ধরানো। এদিন ধর্নামঞ্চ থেকেও একই অভিযোগ করেন তিনি।
মমতার কথায়, দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার 'চক্রান্ত' করছে। রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ বলেছে ওয়াই চ্যানেলে কিছু করার জন্য অনুমতি নিতে হবে। এটা তো সম্ভব নয়। তাহলে আগে থেকে বলা যেত। আসলে এটা বিরোধী স্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এই প্রসঙ্গেই মমতার বার্তা, ''যেখানে জায়গা পাব বসে যাব, আমাকে আটকাতে পারবেন না।''
তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অশান্তির একাধিক ঘটনা। তিনি দাবি করেন, দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের হেনস্থা - সবকিছুই একটি বিজেপির ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে চাপে রাখতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের সময়ে বিজেপিকে দুধে-ভাতে রাখা হয়েছিল।' তাঁর সংযোজন, অতীতে রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখেই তাঁদের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি যে মনোভাব দেখা যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। তাঁর প্রশ্ন, ''সো-কলড জিতেও স্বস্তি পাচ্ছেন না, তাহলে কি ভয় পাচ্ছেন, মানুষকে ভরসা করতে পারছেন না?''

