দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা (Middle East Tension) ঘনিয়ে এসেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি (Iran America Conflicts) কার্যত ভেঙে পড়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা, সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম (Fuel Price Hike) এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Pronali) ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও সোমবার ও মঙ্গলবার তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার পরই পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা। মার্কিন বাহিনী ইরানের সিরিক, কেশম এবং বন্দর আব্বাস-সহ একাধিক এলাকায় হামলা চালায়। সেই সময় ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য চলছিল।
ওয়াশিংটনের দাবি, তারা ইরানের প্রায় ৮০টি স্থানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আগের রাতের হামলা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রয়োজন হলে আবারও একই ধরনের হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ফের সংঘর্ষ ফের শুরু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা বিশ্ব বাণিজ্য, শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাই সব পক্ষকে সংযম দেখানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হল আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধান। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্বের বহু দেশের মতো ভারতও তার ধাক্কা খাবে।
উল্লেখ্য, সংঘর্ষের আবহ তৈরি হতেই বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শেয়ার বাজারে চাপ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও ঊর্ধ্বমুখী। এর সরাসরি প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর পড়তে পারে। সেই কারণেই ভারত শুরু থেকেই যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে আসছে।

