দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রায় দু'ঘণ্টার বৈঠকের পরও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।
মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ইরানের স্থগিত তহবিল মুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এমন কোনও চুক্তিতেই সম্মতি দেবেন না যা আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে তিনি 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' নিতে চলেছেন। তাঁর দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে পাতা মাইন সরিয়ে ফেলবে, আমেরিকাও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুঁজে ধ্বংস করার কথাও বলেন তিনি। তবে ইরানের বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্তির বিনিময়ে কোনও অর্থ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েইল বাঘেই (Esmaeil Baghaei)-ও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে তেহরানের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা মজুত ইউরেনিয়াম নিয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, তেহরান কোনও একতরফা ছাড় দিতে রাজি নয়। একই সুর শোনা গিয়েছে ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের গলিবাফের বক্তব্যেও। তিনি বলেছেন, কথোপকথনের চেয়ে শক্তির প্রদর্শনই ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং অন্য পক্ষ আগে পদক্ষেপ না করলে তেহরানও এগোবে না।
চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তার পরেও একাধিকবার দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

