দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকা দেখলে গা শিউরে উঠবে। স্ত্রী ফ্লেমিংগোর মাথায় ঠোক্কর বসিয়ে যাচ্ছে পুরুষ ফ্লেমিংগো। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মাথা, চোখ। চুঁইয়ে পড়া সেই রক্তের মতো তরল খেয়ে চলেছে কচি ছানা। ফ্লেমিংগোর সংসারে এমন রক্তারক্তি কাণ্ড দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ ওই তরল আসলে রক্ত নয়। দুধ। ফ্লেমিংগোর ক্রপ মিল্ক। আইএফএস পরভিন খাসওয়ানের একটি ভিডিও দেখে শোরগোল পড়ে গেছে নেট দুনিয়ায়। বন্যপ্রাণ নিয়ে প্রায়ই নানারকম চমকদার ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেন পরভিন খাসওয়ান। মা ফ্লেমিংগোর ছানাকে খাওয়ানোর এই ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ফ্লেমিংগো পরিবার কিন্তু মোটেও ঝগড়াঝাটি, মারামারি করছে না, এমনটাই লিখেছেন পরভিন।
স্তন্যপায়ীদের থেকে খেচর প্রাণীদের অন্ত্রের গঠন কিছুটা আলাদা। এদের খাদ্যনালীতে একটি বিশেষ অংশ থাকে যাকে বলে ক্রপ। মূলত গলার কাছে থাকে এই অংশ। মোলাস্কা এবং সন্ধিপদদের মধ্যেও দেখা যায় ক্রপ। পায়রা, ফ্লেমিংগোর মতো পাখিরা এই ক্রপের মধ্যে প্রোটিন ও ফ্যাটে ভরপুর এক ধরনের তরল তৈরি করতে পারে, যেটা তাদের ছানাদের জন্য পুষ্টিকর। বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ রকম তরলকেই বলেন ক্রপ মিল্ক (Crop Milk)। সন্তানদের খাওয়ানোর সময় ক্রপ থেকে ওই তরল বার করে ফ্লেমিংগোরা। ভিডিওতেও তেমনটাই করছিল ফ্লেমিংগো দম্পতি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ক্রপ মিল্কের রঙ লাল কেন? রঙের এই বিশেষ ধরন শুধুমাত্র ফ্লেমিংগোদের মধ্যেই দেখা যায়। কারণ এই তরলে থাকে ক্যারোটিনয়েড প্রোটিন। ফ্লেমিংগোদের শারীরিক গঠন ও পালকের রঙ দেখলেই পরিষ্কার ধারণা হবে। এমন লাল-কমলার মিশেলে আগুনে রঙই ফ্লেমিংগোদের বৈশিষ্ট্য। সাদার উপর এমন লাল আগুনে রঙের কারণও সেই ক্যারোটিনয়েড প্রোটিন। বিজ্ঞানীরা বলেন, শৈবাল ও কীটপতঙ্গই ফ্লেমিংগোদের প্রিয় খাদ্য। এসবের মধ্যে থাকে ক্যারোটিনয়েড। কাজেই ফ্লেমিংগোদের অন্ত্রে এই খাবার পাচিত হয়ে এমন ক্যারোটিনয়েড পিগমেন্ট তৈরি করে। ফ্লেমিংগো কথাটা এসেছেই 'ফ্ল্যামেঙ্কো' থেকে, যার অর্থ 'আগুনে পাখি।' বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্যারোটিনয়েড প্রটোনিরে কারণেই ফ্লেমিংগোদের ক্রপ মিল্কের রঙ লাল বা গোলাপি রঙের হয়। ক্রপ মিল্কের রঙ কতটা গাঢ় হবে সেটা নির্ভর করে ফ্লেমিংগোদের প্রজাতির উপর। যে ধরনের শৈবাল বা পোকামাকড় এরা পছন্দ করে তাদের মধ্যে লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি রঙের রঞ্জক থাকে। কোনও কোনও ফ্লেমিংগোর পালক ও রক্তের রঙ গোলাপি। আবার কারওর গাঢ় লাল বা লালচে-কমলা। এখনও অবধি ছ'রকমের ফ্লেমিংগো প্রজাতির খোঁজ মিলেছে যাদের মধ্যে রয়েছে চিলিয়ান ফ্রেমিংগো, লেসার ফ্রেমিংগো, ক্যারিবিয়ান ফ্লেমিংগো, আন্দেয়ান ও পুনা ফ্লেমিংগো। আফ্রিকায় এই পাখিদের দেখা সবচেয়ে বেশি মেলে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস পায় ফ্লেমিংগোরা।

