দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এমনিতেই উত্তাপ। কোথাও জীবিত মানুষ 'মৃত', কোথাও আবার খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না পরিচিত নাম। সেই আবহেই সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ও প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ছেলে অতীশ আজিজের পরিচয়ই বদলে গিয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায়।
মুসলিম পরিচয়ের বদলে তাঁদের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে 'ব্রাহ্মণ' পদবী— 'অবস্থি'!
মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যায়, অতীশ আজিজের 'লাস্ট নেম' বাংলায় লেখা রয়েছে 'অবস্থি'। শুধু তাই নয়, বাবার নামের পাশে আত্মীয়ের পরিচয়েও একই পদবী বসানো হয়েছে। অর্থাৎ, মহম্মদ সেলিমের নামের সঙ্গেও কার্যত জুড়ে গিয়েছে 'অবস্থি'। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দেন অতীশ। ভোটার তথ্যের স্ক্রিনশট পোস্ট করে তিনি লেখেন, 'নির্বাচন কমিশন আমাকে ব্রাহ্মণ বানিয়ে দিয়েছে, আর আমার বাবাকেও।'
এই ভুল ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে সিপিআইএম। দলের নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি নিছক টাইপিংয়ের ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয় নয়। অতীশ আজিজ এক সংবাদসংস্থাকে জানান, তাঁর বাবা কয়েক দশক ধরে রাজনীতির পরিচিত মুখ। 'এমন একজনের ক্ষেত্রেই যদি এই ধরনের ভুল হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের ভোটার তালিকায় কী দশা, তা সহজেই বোঝা যায়,' মন্তব্য তাঁর। তাঁর মতে, এই ঘটনা গোটা প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
অন্য দিকে, কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, অফিসিয়াল খসড়া তালিকায় আদতে এমন কোনও ভুল নেই। নির্বাচন দফতরের ব্যাখ্যা, বাংলায় অনুবাদ করে দেখার সময়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, গ্রাম বাংলার যেসব এলাকায় রোল বাংলায় রয়েছে, সেখানে এই সমস্যা নেই। তবে কলকাতা শহরের ক্ষেত্রে যেহেতু রোল ইংরেজিতে, সেখানে এমন ভুল হয়ে থাকতে পারে।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন মহম্মদ সেলিম নিজেও। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর অভিযোগ, 'ভোটার তালিকার মতো অত্যন্ত গুরুতর একটি প্রক্রিয়াকে নির্বাচন কমিশন হালকাভাবে নিয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসআইআর চালানো হয়েছে।' তাঁর কটাক্ষ, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার— সকলেই এই প্রক্রিয়াকে কার্যত 'প্রহসন'-এ পরিণত করেছেন।

