Abhishek Banerjee : শনিবার সোনারপুরে আক্রান্ত তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শহরের হাসপাতালে ভর্তি করানোকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ালো। আহত অভিষেককে নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার একাধিক হাসপাতালে গেলেও, চিকিৎসকদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভর্তির মতো কোনও গুরুতর আঘাত না মেলায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সিইও-র ওপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভপ্রকাশ এবং হুমকির একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছে (abhishek banerjee hospital admission denied) ।
হাসপাতাল বদল ও ভর্তির টানাপোড়েন
শনিবারের ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না- এই অভিযোগ তুলে মমতারা তাঁকে মিন্টো পার্কের কাছের অন্য একটি নামী হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি বিশেষ সুইটে ভর্তি করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে সেই সময়ে সুইটটি খালি না থাকায় চিকিৎসকেরা তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে প্রায় ৫৭ মিনিট ছিলেন তাঁরা। পরিবারের অনুরোধে স্ক্যান-সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হলেও চিকিৎসকেরা জানান, বুকে একটি কালশিটে ছাড়া অভিষেকের শরীরে আর কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নেই। তিনি সম্পূর্ণ সচেতন এবং স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা বলছিলেন। ফলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার কোনো প্রয়োজন ছিল না। সাধারণ স্যালাইন ও কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সিইও-কে ধমক ও হুমকির ভিডিও ভাইরাল
অভিষেককে ভর্তি না করায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালের সিইও-র দিকে আঙুল উঁচিয়ে তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করতে দেখা যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি) দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিইও-কে উদ্দেশ্য করে বলছেন:
"সরি মিস্টার ট্যান্ডন, আপনি ভুল করেছেন। মনে রাখবেন, আমরা আপনার জন্য কী কী সাহায্য করেছি। ভগবান আপনাকে ক্ষমা করবে না। পুলিশ-প্রশাসনের ভয়ে মাথা নত করে আপনি একজন রোগীর চিকিৎসা করলেন না! লজ্জা হওয়া উচিত।"
এখানেই শেষ নয়, সিইও-র বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, "এখন বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে ভাবছেন? কাল যখন কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে না, আমরা ব্যাপারটা দেখে নেব।" এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির পাল্টা অভিযোগ তোলেন এবং জানান, অভিষেককে বাড়ি নিয়ে গিয়ে পারিবারিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
২০২১-এর স্মৃতি ও রাজনৈতিক বিতর্ক
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে পাঁচ বছর আগের অর্থাৎ ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের একটি ঘটনার স্মৃতি ফিরে এসেছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে পায়ে চোট পেয়ে দীর্ঘদিন হুইলচেয়ারে চড়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। তৎকালীন বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছিলেন, সেই চোট ততটা গুরুতর ছিল না।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি নেত্রী তথা চিকিৎসক অর্চনা মজুমদার তীব্র কটাক্ষ করে বলেন:
- অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি: "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে অভ্যস্ত। নন্দীগ্রামেও তিনি জোর করে প্লাস্টার করিয়ে হুইলচেয়ার নিয়েছিলেন।"
- চিকিৎসকদের স্বাধীনতা: "চিকিৎসকেরা রাজনীতির চাপে নয়, নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আগে সেই পরিবেশ ছিল না।"
- অতীতের অব্যবস্থা: "আগে পিজি হাসপাতালের উডবার্ন ব্লককে তৃণমূলের নেতারা আইনের হাত থেকে বাঁচতে বা বিশ্রামের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতেন। ফলে সাধারণ মানুষ বেড পেতেন না। বর্তমান বিজেপি সরকার সেই ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। তাই যাঁর প্রয়োজন নেই, হাসপাতাল তাঁর জন্য বেড অপচয় করেনি। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পুরনো কায়দায় চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাসপাতাল-বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

