মে মাসের শুরুতেই সোনার দামে পতন, আর তাতেই খুশির হাওয়া গয়না ক্রেতাদের মধ্যে। ভারতে আজ ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ₹৩৫০ কমেছে, যা গতকালের বড় উল্লম্ফনের পর একপ্রকার স্বস্তি এনে দিয়েছে বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: ডলার দুর্বল, সোনায় চাপ
আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজারে আগের পতনের পর সোনার দাম আবার প্রতি আউন্সে $৪৬০০-এর উপরে উঠেছে।
মার্কিন ডলারের তীব্র পতনের কারণে বৈশ্বিক সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও। ফলে বিয়ের মরশুমে সোনা এখন তুলনামূলকভাবে আরও সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।
চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত
দেশে সোনার দাম কমায় অনেকেই এখন গয়না ও সোনার মুদ্রা কেনার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দামের পতন বাজারে চাহিদা বাড়াতে পারে এবং সামগ্রিক বিক্রিও বাড়তে পারে।
১ মে-র সোনার দাম : গতকাল IBJA-এ দাম অনুযায়ী সোনার দাম (Ajker Sonar Dam)
- ২৪ ক্যারেট: ₹১,৫০,২৬৩ প্রতি ১০ গ্রাম
- ২৩ ক্যারেট: ₹১,৪৯,৬৬১ প্রতি ১০ গ্রাম
- ২২ ক্যারেট: ₹১,৩৭,৬৪১ প্রতি ১০ গ্রাম
- ১৮ ক্যারেট: ₹১,১২,৬৯৭ প্রতি ১০ গ্রাম
- ১৪ ক্যারেট: ₹৮৭,৯০৪ প্রতি ১০ গ্রাম

আজ কলকাতায় সোনার দর
- কলকাতায় আজ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,৫০,৩৮০, যা গতকালের ₹১,৫২,৭৩০-এর তুলনায় ₹২,৩৫০ কম।
- কলকাতায় আজ ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,৩৭,৮৫০, যা গতকালের ₹১,৪০,০০০-এর তুলনায় ₹২,১৫০ কম।
- কলকাতায় আজ ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,১২,৭৯০, যা গতকালের ₹১,১৪,৫৫০-এর তুলনায় ₹১,৭৬০ কম।
দেখে নিন আজকের সোনার দামের তালিকা (প্রতি ১০ গ্রাম)
| শহরের নাম | ২৪ ক্যারেট সোনার দাম | ২২ ক্যারেট সোনার দাম | ১৮ ক্যারেট সোনার দাম |
| দুর্গাপুর | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| আসানসোল | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| শিলিগুড়ি | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| দমদম | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| ব্যারাকপুর | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| মালদহ | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| বহরমপুর | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| পুরুলিয়া | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| বারাকপুর | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| বাঁকুড়া | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
| বারাকপুর | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৩৮০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৮৫০ টাকা | প্রতি ১০ গ্রাম ১,১২,৭৯০ টাকা |
MCX আপডেট: ছুটির কারণে বন্ধ ট্রেডিং
Multi Commodity Exchange of India (MCX)-এ মে দিবস উপলক্ষে আজ সমস্ত ধরনের পণ্য লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে আজ সোনার বা রুপোর ফিউচার ট্রেডিংয়ে কোনও নতুন দামের আপডেট পাওয়া যায়নি। তবে তার আগের ট্রেডিং সেশন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের বাজার বন্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলেছে। ৫ জুন ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত সোনার ফিউচার কন্ট্রাক্টে দাম সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ০.০৮% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,৫১,২২৫-এ গিয়ে বন্ধ হয়েছে। এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট কাজ করছে।
একইভাবে, রুপোর ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ৫ মে মেয়াদি রুপোর ফিউচার কন্ট্রাক্ট ০.০৭% বেড়ে প্রতি কেজিতে ₹২,৩৮,৭৯০-এ বন্ধ হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা সেফ-হ্যাভেন সম্পদ হিসেবে সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকছেন, যার প্রতিফলন এই সামান্য দাম বৃদ্ধিতে দেখা যাচ্ছে।
স্পট মার্কেট বিশ্লেষণ: কী বলছে রিপোর্ট?
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দামের গতিপ্রকৃতি বর্তমানে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। Trading Economics-এর তথ্য অনুযায়ী, আগের সেশনে প্রায় ২% বৃদ্ধির পর শুক্রবার সোনার দাম প্রতি আউন্সে $৪৬০০-এর উপরে স্থিতিশীল রয়েছে। এই স্থিতিশীলতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর বাজার কিছুটা ভারসাম্যে ফিরছে।
এই দামের পেছনে অন্যতম বড় কারণ মার্কিন ডলারের দুর্বলতা। জাপানের মুদ্রা বাজারে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের খবর সামনে আসার পর ডলারের মান কমে যায়। ফলে ডলার-নির্ভর পণ্যের মধ্যে সোনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে অন্যান্য মুদ্রাধারী বিনিয়োগকারীদের কাছে। এর ফলেই সোনার চাহিদা বাড়ে এবং দামে সমর্থন তৈরি হয়।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, ডলার ও সোনার মধ্যে একটি বিপরীত সম্পর্ক কাজ করে। ডলার দুর্বল হলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন। বিশেষ করে যখন বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন সোনা 'সেফ হ্যাভেন' হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
তবে শুধু ডলার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা, বন্ড ইল্ডের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি-সব মিলিয়ে সোনার দামের ওপর চাপ ও সমর্থন-দুটোই তৈরি করছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা থাকলেও, বাজারে একটি স্থিতিশীল প্রবণতা গড়ে উঠছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামনে কী ইঙ্গিত?
তবে সবকিছুর মধ্যেও সোনার বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং Hormuz প্রণালী দ্রুত খোলার সম্ভাবনা কম থাকায় বাজারে চাপ বজায় রয়েছে। এদিকে World Gold Council-এর তথ্য বলছে, বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনার রিজার্ভ বাড়িয়েছে-যা দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

