Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Annapurna Bhandar: একই পরিবারের ২ জন মহিলারা কি পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? জানুন নতুন সরকারি নিয়ম

Annapurna Bhandar: একই পরিবারের ২ জন মহিলারা কি পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? জানুন নতুন সরকারি নিয়ম

Annapurna Bhandar: রাজ্যে পালাবদলের পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল গ্রামীণ ও শহরের পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং প্রতি মাসে তাদের হাতে একটি নির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া।

এই যোজনার জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে, প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন এই নিয়ে আলোচনা চলে (annapurna yojana west bengal)। তবে বহু মানুষের মনে এখনো একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে যে, একই পরিবারে যদি একাধিক যোগ্য মহিলা থাকেন, তবে তারা কি প্রত্যেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী? সরকারি নিয়মকানুন এই বিষয়ে ঠিক কী বলছে, তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

সরকারি নির্দেশিকা ও যোগ্যতা (Government Guidelines and Eligibility)

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের জন্য যে সমস্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে কারা এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আসতে পারবেন। সাধারণত একটি পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্য যদি নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠিগুলো পূরণ করতে পারেন, তবে তাদের আবেদন খারিজ করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে পারে। এর পাশাপাশি তাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কোনো পরিবারে যদি শাশুড়ি এবং বৌমা-উভয়েই এই বয়সের সীমারেখার মধ্যে থাকেন এবং অন্যান্য শর্তগুলো মেনে চলেন, তবে তারা দুজনেই আলাদা আলাদা ভাবে আবেদন জানাতে পারেন। অর্থাৎ, একই ছাদের তলায় বসবাস করলেও দুই মহিলারই এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা (Bank Account and Documentation Requirements)

এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোক্তার হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করেছে। একই পরিবারের দুজন মহিলা যখন আবেদন করবেন, তখন তাদের সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। অনেকে মনে করেন যে পরিবারের একটিমাত্র যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের (Joint Account) মাধ্যমেই দুজনের টাকা চলে আসবে, কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সরকারি নিয়ম অনুসারে, প্রত্যেক আবেদনকারী মহিলার নিজস্ব নামে একটি একক বা সিঙ্গেল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (Single Bank Account) থাকতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে হবে আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর। যদি দুই মহিলার আলাদা আলাদা সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে আবেদন প্রক্রিয়া মাঝপথেই আটকে যেতে পারে। তাই নথিপত্র জমা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।



কাস্ট সার্টিফিকেট ও ভাতার তারতম্য (Caste Certificate and Allowance Variation)

প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রে কিছুটা সামাজিক বিন্যাস রয়েছে। তফশিলি জাতি এবং তফশিলি উপজাতিভুক্ত পরিবারের মহিলারা সাধারণত সাধারণ বা ওবিসি বিভাগের মহিলাদের চেয়ে কিছুটা বেশি পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। এখন প্রশ্ন হলো, একই পরিবারে যদি দুজন মহিলা আবেদন করেন, তবে কি দুজনেই সমান টাকা পাবেন? এর উত্তর নির্ভর করছে তাদের কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্রের (Caste Certificate) ওপর। যদি পরিবারের কোনো একজন মহিলার নামে নিজস্ব কাস্ট সার্টিফিকেট থাকে এবং অন্যজনের নামে না থাকে, তবে যার শংসাপত্র রয়েছে তিনি তফশিলি জাতির জন্য নির্ধারিত উচ্চ হারের ভাতা পাবেন এবং অন্যজন সাধারণ বিভাগের জন্য নির্ধারিত ভাতা পাবেন। তবে দুজনেরই যদি নিজস্ব শংসাপত্র থাকে, তবে দুজনেই সমপরিমাণ উচ্চ হারের ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অন্যের শংসাপত্র দেখিয়ে একই পরিবারের দ্বিতীয় জন সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।

বিবাহিত ও অবিবাহিত মহিলাদের অধিকার (Rights of Married and Unmarried Women)

একটি পরিবারে বিভিন্ন সম্পর্কের মহিলারা থাকতে পারেন, যেমন মা, মেয়ে, শাশুড়ি বা পুত্রবধূ। সরকারি নিয়ম অনুসারে, কোনো পরিবারের অবিবাহিত কন্যা, যাঁর বয়স ২৫ বছর পার হয়ে গেছে, তিনিও এই প্রকল্পের জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য। আবার সেই একই পরিবারে যদি তাঁর মা বা বৌদি থাকেন, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। বিবাহিত মহিলারা তাঁদের শ্বশুরবাড়ির ঠিকানায় আবেদন করতে পারেন, আবার যদি কোনো কারণে তাঁরা বাপের বাড়িতে সাময়িকভাবে বসবাস করেন, তবে সেখানকার নথির ভিত্তিতেও প্রক্রিয়াটি চালানো সম্ভব। তবে প্রধান শর্ত এটাই যে, একই পরিবার থেকে যতজন মহিলাই আবেদন করুন না কেন, প্রত্যেকের বয়স এবং পরিচয়পত্রের সত্যতা সরকারি পোর্টালে সঠিকভাবে যাচাই হতে হবে। কোনো ভুয়ো তথ্য বা একটি তথ্য দুই জায়গায় ব্যবহার করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আবেদন প্রক্রিয়া(Application Process)

ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ফর্ম জারি করা হয়েছে। অনলাইন থেকেও এই ফর্ম আপনি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই শিবিরগুলো থেকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করা যায়। একই পরিবারের দুজন মহিলা যদি আবেদন করতে চান, তবে তাঁদের দুজনকে আলাদা আলাদা দুটি ফর্ম তুলতে হবে এবং সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পূরণ করতে হবে। ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় সমস্ত জেরক্স কপি যেমন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এবং ব্যাংকের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ছবি সংযুক্ত করতে হবে। সমস্ত নথি আলাদা আলাদা ফাইলে সাজিয়ে নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিতে হবে। সরকারি আধিকারিকরা সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করার পর আবেদনটি অনুমোদিত হয়।

সাধারণ ভুলভ্রান্তি ও সতর্কবার্তা (Common Mistakes and Warnings)

একই পরিবার থেকে একাধিক আবেদন করার সময় কিছু সাধারণ ভুলভ্রান্তি প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, যার কারণে টাকা আসতে দেরি হয় বা আবেদন পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়। ফর্মটি মোট ১২ পাতার। তাই প্রত্যেকটি পেজে সঠিক তথ্য নিয়ে ফর্ম পূরণের জন্য বলা হচ্ছে। সেখানে বাড়ির সদস্য কতজন, বার্ষিক আয়, জমির পরিমাণ এবং ঘরের তথ্য সঠিক ভাবে দিতে হবে। ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি যেন অবশ্যই সচল বা একটিভ (Active) থাকে এবং তাতে যেন কোনো লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা বা লিমিট না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আইনি সমস্যার সম্মুখীনও হতে হতে পারে।

Read more news like this on bengali.timesnownews.com

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Times Now khabar