অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণ (Annapurna Bhandar Form Fill Up) নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি কাটাতে বড় আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১১-১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম, পরিবারের নানা তথ্য, ব্যাঙ্ক-আধার-রেশন-জমি সংক্রান্ত বিবরণ-সব মিলিয়ে বহু আবেদনকারীই সমস্যায় পড়ছেন।
সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ (Annapurna Bhandar Form Fill Up) করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়েই সাহায্য করবেন সরকারি প্রতিনিধিরা।
শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বুধবার ৩,০০০ টাকা করে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি আবেদনকারীদের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ফর্ম পূরণে সমস্যায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
অন্নপূর্ণা যোজনা বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-এত বড় ফর্ম কীভাবে পূরণ করবেন? অনেকেরই অভিযোগ, ফর্মে পরিবারের প্রায় সব খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চল বা প্রান্তিক পরিবারের বহু মহিলা নিজে নিজে এই ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।
এই জায়গাতেই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেউ বিচলিত হবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না। যাঁরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্মে সাহায্য (Door To Door Form Assistance) করা হবে। সরকারি বা প্রশাসনিক প্রতিনিধিরাই প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩ জুন প্রথম ধাপের টাকা?
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩ জুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রথম পর্যায়ের ৩,০০০ টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ২ জুনের মধ্যে যাঁরা ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন, তাঁদের নথি যাচাইয়ের পর যোগ্য হলে টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতে পারে। তবে টাকা পেতে হলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার সংযোগ এবং DBT সক্রিয় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, টাকা শুধু প্রকৃত প্রাপকদের হাতেই পৌঁছবে। তাই আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Form: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিল আপ করতে কী কী নথি লাগবে? ভুল হলে আটকে যেতে পারে ৩,০০০ টাকা
কেন এত তথ্য চাইছে সরকার?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে পরিবার, আয়, পেশা, ব্যাঙ্ক, জমি, বাড়ি, রেশন, স্বাস্থ্যবিমা, গাড়ি এবং সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত একাধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই নিয়েই বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে একাংশের মধ্যে। অনেকের প্রশ্ন, মাসে ৩,০০০ টাকার জন্য এত তথ্য কেন দরকার?
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করতেই এই যাচাই জরুরি। সরকার চাইছে না কোনও অ-ভারতীয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা যাক। একই সঙ্গে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে মহিলাদের প্রকল্পের টাকা যাওয়া আটকাতেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। শুভেন্দু দাবি করেছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা অবৈধ ভাবে পাওয়া কিছু পুরুষ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়া করা হচ্ছে।
কারা পাবেন, কারা পাবেন না?
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। তবে আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত বেতনভোগী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। প্রকল্পের টাকা পরিবারের পুরুষ সদস্যের অ্যাকাউন্টে নয়, যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হবে।
তাই ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীর নাম, বয়স, আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, DBT স্ট্যাটাস এবং পরিবারের আর্থিক তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি। ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে আবেদন যাচাইয়ে আটকে যেতে পারে।
ফর্ম সরল হবে কি?
অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, প্রথমে ভাবা হয়েছিল যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তাঁরাই অন্নপূর্ণার সুবিধা পাবেন। কিন্তু ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন ফর্ম আনা হয়েছে। ফর্ম জটিল হলে তা আরও সহজ করার বিষয়েও সরকার ভাবতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে ফর্ম সরল হলেও যাচাই প্রক্রিয়া এড়ানো হবে না, এমনই বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। কারণ এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফলে আবেদনকারীর পরিচয়, নাগরিকত্ব, ব্যাঙ্ক-DBT এবং আর্থিক যোগ্যতা মিলিয়ে দেখা প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুজব নয়, ঠিক তথ্যের উপর জোর
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণ (Annapurna Bhandar Form Fill Up) নিয়ে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল গুজব এড়ানো। কে ফর্ম পূরণ করবেন, কোথায় জমা দিতে হবে, কোন নথি লাগবে, কবে টাকা মিলবে-এসব বিষয়ে সরকারি নির্দেশ ও প্রশাসনিক ঘোষণার উপর নির্ভর করাই নিরাপদ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সংকল্পপত্রের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করার দায়িত্ব তাঁর সরকারের। সেই কারণে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্যের ব্যবস্থা করবে। ফলে আবেদনকারীদের এখন সবচেয়ে আগে দরকার নথি গুছিয়ে রাখা, ব্যাঙ্ক-আধার-DBT যাচাই করা এবং সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করা।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

