অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম (Annapurna Yojana Form) পূরণ নিয়ে রাজ্যজুড়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা পেতে হলে শুধু নাম লিখলেই হবে না, দিতে হবে পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং নথি। তাই ফর্ম পূরণের আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ডকুমেন্ট লিস্ট ( Annapurna Bhandar Document List) ভাল ভাবে জেনে রাখা জরুরি।
কারণ তথ্য ভুল হলে বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে আবেদন যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হওয়ার কথা। অনলাইন এবং অফলাইন-দু'ভাবেই আবেদন করা যাবে। তবে আবেদনকারীদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন, ঠিক কী কী নথি হাতে রাখতে হবে? কোন তথ্য আগে থেকে মিলিয়ে নেওয়া দরকার? আর কোন ভুল করলে টাকা ঢোকা আটকে যেতে পারে?
পরিবারের প্রধান ও সদস্যদের তথ্য লাগবে
অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার ফর্মে প্রথমেই পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, লিঙ্গ, আধার নম্বর এবং আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম, বয়স, সম্পর্ক এবং পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্যও লিখতে হবে।
একটি পরিবার একটি ফর্ম পাবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তবে সেই ফর্মে পরিবারের একাধিক সদস্যের তথ্য দেওয়ার জায়গা থাকবে। ফলে ফর্ম পূরণের আগে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পরিচয়পত্র, বয়স, পেশা এবং সম্পর্কের তথ্য একসঙ্গে গুছিয়ে রাখা ভাল।
আধার, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক তথ্য অত্যন্ত জরুরি
ফর্ম পূরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যাঙ্ক ও পরিচয়-সংক্রান্ত নথি। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে। ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। সরাসরি টাকা পাঠানোর জন্য ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
এর পাশাপাশি লাগবে ভোটার কার্ড বা EPIC নম্বর, বিধানসভার নাম, পার্ট নম্বর, ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্য এবং প্যান কার্ড থাকলে তার বিবরণ। ব্যাঙ্কে আগে আধার জমা দিলেও DBT সক্রিয় আছে কি না, তা আলাদা করে দেখে নেওয়া ভাল। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে বা নেটব্যাঙ্কিং-মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আধার লিঙ্কিং ও সিডিং স্ট্যাটাস পরীক্ষা করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: West Bengal DA Arrears: অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বকেয়া ডিএ, কর্মরতদের টাকা কবে?
জমি, বাড়ি, গাড়ি ও সম্পত্তির তথ্য দিতে হবে
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ডকুমেন্ট লিস্ট (Annapurna Bhandar Document List)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য। আবেদনকারী যে বাড়িতে থাকেন সেটি কাঁচা না পাকা, বাড়িতে সিমেন্টের দেওয়াল ও ছাদযুক্ত তিন বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কি না, তা জানাতে হবে।
পরিবারের মোট জমির পরিমাণ, জমির দলিল, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত তথ্যও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও ব্যক্তিগত চার চাকার গাড়ি থাকলে সেই তথ্যও গোপন করা যাবে না। অর্থাৎ, শুধু আর্থিক সাহায্যের আবেদন নয়, পরিবারটির সামগ্রিক আর্থিক ও সম্পত্তিগত অবস্থাও এই ফর্মের মাধ্যমে যাচাই করবে প্রশাসন।
আয়, পেশা, কর ও সরকারি সুবিধার তথ্য
পরিবারের প্রত্যেক সদস্য কী কাজ করেন, তাঁদের পেশা কী, পরিবারের মোট বার্ষিক আয় কত-এসব তথ্য দিতে হবে। পরিবারের কেউ আয়কর বা পেশাগত কর দেন কি না, সরকারি পেনশনভোগী কি না, ব্যবসা থাকলে GST দেন কি না-এসবও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
পরিবারের কোনও সদস্য বর্তমানে রাজ্য সরকারের অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা পেলে সেটিও জানাতে হবে। স্বাস্থ্যবিমা, কিসান ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড, শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড বা DBT পেনশন থাকলে সেই তথ্যও দিতে হবে। পরিবারের কেউ সাংবিধানিক পদে থাকলে সেটিও গোপন করা যাবে না।
শিক্ষা, টিকা ও বিশেষ তথ্যও চাইছে ফর্ম
ফর্মে পরিবারের শিক্ষিত সদস্যদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সেই সংক্রান্ত শংসাপত্র বা নথি দরকার হতে পারে। বাড়িতে স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়ে থাকলে তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, সেই তথ্যও দিতে হবে।
এর পাশাপাশি টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্যও নেওয়া হবে। পরিবারের শিশুদের সাম্প্রতিক টিকা, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, এমনকি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ে থাকলে এবং বিষয়টি ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকলে সেটিও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
ফর্ম সরল হতে পারে, তবে তথ্য গোপন নয়
১১ পাতার ফর্ম নিয়ে বহু আবেদনকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, প্রান্তিক মহিলাদের অসুবিধা হলে ফর্ম সরলীকরণের বিষয়টি দেখা হতে পারে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে সরকারের বার্তা পরিষ্কার-ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে আবেদনকারী চিহ্নিত হতে পারেন।
গ্রামাঞ্চলে আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে বিডিও-র উপর। শহরাঞ্চলে এসডিও, কলকাতায় পুর আধিকারিক এবং চূড়ান্ত অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা থাকবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর তথ্য যাচাই হবে। আবেদন বাতিল হলে কারণ উল্লেখ করতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে।
তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম (Annapurna Yojana Form) পূরণের আগে আধার, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক-DBT, রেশন কার্ড, প্যান, জমির কাগজ, আয় ও পেশা সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে রাখা সবচেয়ে জরুরি। তাড়াহুড়ো না করে সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করাই ৩,০০০ টাকার মাসিক সহায়তা পাওয়ার পথে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

