অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে একদিনে বিধানসভা ভোট শুধু আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির দিক নির্ধারণের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোট ১২৬টি আসন নিয়ে অসম, ১৪০টি আসনের কেরল এবং ৩০টি আসনের পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে।
কোথায় কার লড়াই: জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণ
কেরলে (Keralam Assembly Elections 2026) মূল লড়াই বামফ্রন্ট এলডিএফ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের মধ্যে। টানা দু'বার ক্ষমতায় থাকা পিনারাই বিজয়ন এবার ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে তৃতীয়বারের জন্য লড়ছেন। অন্যদিকে অসমে (Assam Assembly Elections 2026) বিজেপি-অসম গণ পরিষদ জোটের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোট শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে, যেখানে একাধিক আঞ্চলিক শক্তিও যুক্ত হয়েছে।
পুদুচেরিতে (Puducherry assembly elections 2026) ক্ষমতাসীন এনআর কংগ্রেস-বিজেপি-এআইএডিএমকে জোটের বিরুদ্ধে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে, ফলে এখানেও দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট।
কেরলে ইতিহাসের লড়াই, অসমে হ্যাটট্রিকের চ্যালেঞ্জ
কেরলে এখনও পর্যন্ত কোনও দল টানা তিনবার সরকার গড়তে পারেনি। সেই রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যে পিনারাই বিজয়ন এগোচ্ছেন, যদিও সমীক্ষায় কংগ্রেস জোটকেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অসমে বিজেপি যদি জয়ী হয়, তাহলে টানা তৃতীয়বার সরকার গড়ার পথে এগোবে। ফলে এই নির্বাচন বিজেপির জন্যও মর্যাদার লড়াই।
গুরুত্বপূর্ণ মুখ ও হাইপ্রোফাইল প্রার্থী
এই নির্বাচনে একাধিক হাইপ্রোফাইল প্রার্থী নজর কাড়ছেন। কেরলে পিনারাই বিজয়ন এবং কেকে শৈলজার মতো শক্তিশালী বাম নেতা যেমন রয়েছেন, তেমনই কংগ্রেসের রমেশ চেন্নিথালা ও বিজেপির রাজীব চন্দ্রশেখরও গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে।
অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিজের শক্ত ঘাঁটি থেকে লড়ছেন, অন্যদিকে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ এবং সিএএ বিরোধী আন্দোলনের মুখ অখিল গগৈ নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছেন। পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর লড়াইও নজরকাড়া।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। হাজার হাজার বুথে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটকর্মীরা আগেভাগেই কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
Explainer: নির্বাচন আবহেই শুরু Census 2027-১৫ বছর পর দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি, রইল যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য; জেনে নিন
আজ কোথায় কোথায় উপনির্বাচন?
একইসঙ্গে কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হচ্ছে, যদিও গোয়ার একটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে।
জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে ফলাফল?
এই তিন রাজ্যের ভোটের ফলাফল শুধু আঞ্চলিক সরকার নির্ধারণ করবে না, বরং আসন্ন বড় রাজ্যগুলির নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বার্তা দেবে। বিশেষ করে কেরলে বাম বনাম কংগ্রেস এবং অসমে বিজেপি বনাম বিরোধী জোটের ফলাফল জাতীয় স্তরের শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোটের ময়দান প্রস্তুত, জোটের অঙ্ক স্পষ্ট, আর নজর এখন ফলাফলের দিকে। ৪ মে গণনা-সেই দিনই ঠিক হবে এই ত্রিমুখী নির্বাচনী লড়াইয়ের আসল রাজনৈতিক বার্তা।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

