গরম পড়তেই পাহাড়ের টানে এবার ভিড় বাড়ছে দেরাদুন-মুসৌরির দিকে। বিশেষ করে দিল্লি-NCR থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখন সপ্তাহান্তে পাহাড়ে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। আর সেই কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নতুন Delhi-Dehradun Expressway। আগে যেখানে দিল্লি থেকে দেরাদুন পৌঁছতে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যেত, এখন সেই পথই কমে এসেছে মাত্র আড়াই ঘণ্টায়।
ফলে মুসৌরি এখন কার্যত 'উইকেন্ড ড্রাইভ ডেস্টিনেশন'।
শুধু উত্তর ভারতের পর্যটকরাই নন, গরমের ছুটিতে কলকাতা-সহ বাংলার বহু পর্যটকও এখন ট্রেন বা বিমানে দিল্লি পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে দেরাদুন-মুসৌরি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে 'রোড ট্রিপ'-এর ঝোঁক এখন অনেকটাই বেড়েছে বাঙালিদের মধ্যে। তাই এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে কৌতূহলও তুঙ্গে। কিন্তু এই সুপারফাস্ট রুটে যাত্রা যতটা রোমাঞ্চকর, বাস্তবে ততটাই চোখে পড়ছে একাধিক সমস্যা-চা নেই, পেট্রোল নেই, মাঝরাস্তায় সাহায্যের ব্যবস্থাও কার্যত অপ্রতুল।
দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বহুদিন ধরেই উত্তেজনা ছিল উত্তর ভারতের মানুষজনের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী Nitin Gadkari দাবি করেছিলেন, এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দিল্লি থেকে দেরাদুন পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। বাস্তবে সেই দাবি সত্যিও প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু শুধুই কি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোই সব?
Maruti Suzuki Jimny EV: চমক নয়, বড়সড় বিস্ফোরণ! মারুতির Maruti Jimny EV কি বাজার কাঁপাতে আসছে?
সম্প্রতি Delhi-Dehradun Expressway-এ রোড ট্রিপে গিয়ে এক অন্য অভিজ্ঞতার (Dehradun Expressway Experience) মুখোমুখি হতে হয়েছে যাত্রীদের। দুর্দান্ত রাস্তা, দ্রুত গতি এবং স্মুথ ড্রাইভিংয়ের পাশাপাশি উঠে এসেছে একাধিক সমস্যা-চা-নাশতার অভাব, পেট্রোল পাম্প না থাকা, পাংচার পরিষেবার অনুপস্থিতি, এমনকি এক্সপ্রেসওয়ের উপর বাঁদরের উপদ্রবও।
আড়াই ঘণ্টার দুরন্ত ড্রাইভ, সত্যিই বদলে দিয়েছে যাত্রার সময়
পূর্ব দিল্লির অক্ষরধাম থেকে শুরু করে দেরাদুনের আশারোড়ি চক পর্যন্ত বিস্তৃত এই এক্সপ্রেসওয়ে বর্তমানে দেশের অন্যতম দ্রুততম ও আধুনিক হাইওয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
সম্প্রতি এক যাত্রী ১ মে এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে জানান, বাস্তবেই দিল্লি থেকে দেরাদুন পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। রাস্তার মান এতটাই ভালো যে দীর্ঘ পথও ক্লান্তিকর মনে হয়নি। বিশেষ করে হাইওয়ের মসৃণতা এবং নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থা ড্রাইভিংকে অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করেছে।
তবে সমস্যা শুরু চা খুঁজতেই!
লং ড্রাইভ মানেই মাঝপথে থেমে এক কাপ চা, কিছুটা বিশ্রাম আর হালকা নাস্তা। কিন্তু Delhi-Dehradun Expressway-এ আপাতত সেই সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
অক্ষরধাম থেকে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চায়ের খোঁজে একটি 'Way Side Amenities' বোর্ড দেখে গাড়ি থামানো হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায় শুধু ধুলো উড়ছে, কোনও দোকান নেই, নেই টয়লেটও। পরে আরও একটি জায়গায় কিছু চিপসের দোকান মিললেও চা তখনও অধরা।
যাত্রীদের দাবি, এখনও এক্সপ্রেসওয়ের অধিকাংশ পরিষেবা নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে পরিবার বা শিশুদের নিয়ে যাত্রা করলে আগে থেকেই খাবার ও পানীয় সঙ্গে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
পেট্রোল বা CNG নেই! বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন চালকরা
এই ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হল ফুয়েল স্টেশনের অভাব। বর্তমানে পুরো রুটে কোথাও CNG বা পেট্রোল পাম্প নেই।এক যাত্রীর কথায়, গাড়িতে মাত্র ৬ কেজি CNG এবং অর্ধেক ট্যাঙ্ক পেট্রোল ছিল। তাঁরা ভেবেছিলেন পথে নিশ্চয়ই ফুয়েল স্টেশন পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ফলে এখনই এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে হলে গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরো ভর্তি করেই বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। না হলে মাঝপথে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
গাড়ি খারাপ হলে কার্যত 'ভগবান ভরসা'
এখনও পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের উপর পর্যাপ্ত সার্ভিস বা ইমার্জেন্সি সাপোর্ট চালু হয়নি বলেই অভিযোগ। যদি মাঝরাস্তায় গাড়ির টায়ার পাংচার হয় বা অন্য কোনও যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সাহায্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। যদিও অন্যান্য হাইওয়ের মতো NHAI পেট্রোলিং টিম ভবিষ্যতে পরিষেবা দিতে পারে, তবে বর্তমানে সেই ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
Honda Prelude: মধ্যবিত্তের স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন?'হোন্ডা' নামেই চমক, কিন্তু দামেই শক! Honda Prelude দাম শুনলে চমকে যাবেন!
এক্সপ্রেসওয়েতে বাঁদরের দাপট, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
সাহারানপুর পেরিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে এগোলে যাত্রার দৃশ্য আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু ডাট কালী মন্দিরের কাছে পৌঁছতেই বড় বিপদ। যাত্রীদের অভিযোগ, ওই অংশে বহু বাঁদর আচমকাই রাস্তার উপর চলে আসে। ১০০ কিমি গতিতে ছুটে চলা গাড়ির সামনে হঠাৎ বাঁদর চলে এলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ড্রাইভারদের মতে, এখানে দ্রুত পদক্ষেপ না করলে ভবিষ্যতে গুরুতর দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
দেরাদুন পৌঁছনো সহজ, কিন্তু তারপর?
এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর দিল্লি-NCR থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখন সপ্তাহান্তে দেরাদুন ও মুসৌরির দিকে ছুটছেন। ফলে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে শহরের ভিতরেই।
যেখানে আগে দেরাদুন থেকে মুসৌরি পৌঁছতে দেড় ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে ভয়াবহ যানজটের কারণে। বিশেষ করে লং উইকএন্ডে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। অনেকের মতে, Delhi-Dehradun Expressway দেরাদুনকে কার্যত নতুন 'জাম নগর'-এ পরিণত করেছে।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

