Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Thalassemia: ৮৪ ইউনিট রক্ত, ৭ বছরের লড়াই; বোনের কর্ড ব্লাড স্টেম সেলে ট্রান্সফিউশন-মুক্ত অক্ষয়, কলকাতায় নজির

Thalassemia: ৮৪ ইউনিট রক্ত, ৭ বছরের লড়াই; বোনের কর্ড ব্লাড স্টেম সেলে ট্রান্সফিউশন-মুক্ত অক্ষয়, কলকাতায় নজির

য়েক মাস আগেও সাত বছরের অক্ষয়ের শৈশবটা আর পাঁচটা শিশুর মতো ছিল না। স্কুল, খেলাধুলা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে তার জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল হাসপাতাল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্লাড ট্রান্সফিউশন (Blood Transfusion)। মাত্র আট মাস বয়সে চিকিৎসকেরা জানান, সে Hb E Beta-Thalassemia নামের একটি গুরুতর বংশগত (Genetic) রক্তরোগে আক্রান্ত অক্ষয়।

এই রোগে শরীর পর্যাপ্ত সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীকে বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত রক্ত নিতে হয়।

অক্ষয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রায় প্রতি ২০ থেকে ২৫ দিন অন্তর ব্লাড ট্রান্সফিউশন নিতে হতো তাকে। গত কয়েক বছরে তার শরীরে দেওয়া হয়েছে ৮৪ ইউনিটেরও বেশি রক্ত। পাশাপাশি চলেছে চেলেশন থেরাপি (Chelation Therapy), যাতে অতিরিক্ত আয়রনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের চেয়েও কঠিন ছিল বাস্তবটা মেনে নেওয়া

অক্ষয়ের বাবা বিলাস চন্দ্র সরকার এবং মা মাধবী রানির কাছে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল ছেলের রোগ ধরা পড়ার পরের সময়টা। মধ্যবিত্ত দম্পতির কাছে একমাত্র সন্তানের জীবন বাঁচানো ও সংসার চালানো প্রায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। কারণ থ্যালাসেমিয়া শুধু একটি রোগ নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জীবনযুদ্ধ। নিয়মিত ট্রান্সফিউশন না হলে শরীরে হিমোগ্লোবিন বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। আবার বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে হৃদযন্ত্র (heart), যকৃত (liver) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। পরিবারের কাছে তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল-এই লড়াইয়ের কি কোনও স্থায়ী সমাধান আছে?



চিকিৎসার মোড় ঘুরিয়ে দিল আর এক সন্তানের আগমন (Cord life, Thalassemia, Stem Cells Transplant and 'Save the Sibling Program')

থ্যালাসেমিয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠিত স্থায়ী চিকিৎসা হল হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট (Haematopoietic Stem Cell Transplant)। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত এইচএলএ (HLA) ম্যাচড ডোনার। অক্ষয়ের ক্ষেত্রে সেই ডোনার ছিল না।

সেখানেই সামনে আসে 'Save The Sibling' কর্মসূচি। চিকিৎসকদের পরামর্শে অক্ষয়ের পরিবার এমন একটি চিকিৎসা-পরিকল্পনার পথে এগোয়, যেখানে আধুনিক আইভিএফ (IVF) এবং জেনেটিক স্ক্রিনিংয়ের সাহায্যে এমন একটি ভ্রূণ নির্বাচন করা হয়, যা একদিকে থ্যালাসেমিয়া-মুক্ত এবং অন্যদিকে অক্ষয়ের জন্য উপযুক্ত HLA ম্যাচ। এই ঘটনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু অক্ষয়ের সুস্থ হয়ে ওঠা নয়, বরং তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ পথটি। চিকিৎসকদের দাবি, কলকাতায় এই প্রথম এমন একটি ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর জন্য উপযুক্ত ডোনার না থাকায় আইভিএফ (IVF) এবং উন্নত জেনেটিক পরীক্ষার সাহায্যে এমন একটি ভ্রূণ নির্বাচন করা হয়, যা একদিকে রোগমুক্ত এবং অন্যদিকে অক্ষয়ের সঙ্গে এইচএলএ (HLA) ম্যাচড ছিল। পরবর্তীতে সেই শিশুর জন্ম হয়, জন্মের সময় তার নাভিরজ্জুর রক্ত বা কর্ড ব্লাড (Cord Blood) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়, এবং কয়েক বছর পরে সেই কর্ড ব্লাডের স্টেম সেল ব্যবহার করেই অক্ষয়ের ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে অক্ষয় ট্রান্সফিউশন-মুক্ত। অর্থাৎ, ডোনার খোঁজা থেকে শুরু করে জেনেটিকভাবে ম্যাচড ভাই-বোনের জন্ম, কর্ড ব্লাড সংরক্ষণ এবং সফল স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট-পুরো চিকিৎসা-শৃঙ্খলটি একসঙ্গে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ঘটনাকেই চিকিৎসকেরা কলকাতার প্রথম নজির হিসেবে তুলে ধরছেন।



অক্ষয়ের ছোট বোন আরাধ্যার জন্ম ও স্টেম সেল সংগ্রহ

আরাধ্যার জন্মের পরপরই তার নাভিরজ্জুর রক্ত বা কর্ড ব্লাড (Cord Blood) থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি এমন একটি সুযোগ যা শুধুমাত্র জন্মের মুহূর্তেই পাওয়া যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। সংগ্রহ করা হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল (Haematopoietic Stem Cells বা HSCs) বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা, প্রক্রিয়াকরণ এবং অতিনিম্ন তাপমাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেগুলি ব্যবহার করা যায়।

বছর কয়েক পরে অক্ষয়ের ট্রান্সপ্লান্টের সময় সেই সংরক্ষিত স্টেম সেলই চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্কিংয়ের অন্যতম বড় সম্ভাবনা এখানেই-জন্মের সময় সংরক্ষিত একটি জৈব সম্পদ ভবিষ্যতে কোনও গুরুতর রোগের চিকিৎসায় জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা নিতে পারে।

তবে অক্ষয়ের চিকিৎসায় শুধু বোন আরাধ্যার কর্ড ব্লাডই নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তার মা মাধবী রানিও। তিনি নিজের স্টেম সেল দান করেন। যদিও তিনি অক্ষয়ের পূর্ণাঙ্গ এইচএলএ (HLA-Human Leukocyte Antigen) ম্যাচ ছিলেন না, বরং 'হ্যাপলোআইডেন্টিক্যাল' (Haploidentical) বা আংশিক ম্যাচড ডোনার ছিলেন, তবুও তাঁর স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে 'Silent Killer' হাই ব্লাড প্রেসার! জানেন কী, মুখের এই লক্ষণই হতে পারে বড় সতর্কবার্তা?

কর্ড ব্লাড থেকে ট্রান্সপ্লান্ট, চিকিৎসায় নতুন অধ্যায়

পরবর্তীতে অক্ষয়ের স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় আরাধ্যার কর্ড ব্লাড থেকে সংগৃহীত স্টেম সেল। পাশাপাশি মাধবী রানিও স্টেম সেল ডোনার হিসেবে অংশ নেন। চিকিৎসকেরা 'হ্যাপলো-কর্ড' (Haplo-Cord) পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যেখানে মায়ের স্টেম সেল এবং বোনের কর্ড ব্লাড-দু'টিকেই কাজে লাগানো হয়।
কর্ড ব্লাড সংরক্ষণ এবং মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল Cordlife। ট্রান্সপ্লান্টের পর কিছু প্রত্যাশিত জটিলতা দেখা দিলেও ধীরে ধীরে অক্ষয়ের শরীর নতুন স্টেম সেল গ্রহণ করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার রক্ত তৈরির প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়।

আজ কেমন আছে অক্ষয়?

আজ অক্ষয়ের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় নয়, বাস্তব জীবনে। যে শিশুকে একসময় প্রতি ২০-২৫ দিন অন্তর ব্লাড ট্রান্সফিউশন নিতে হতো, সে এখন ট্রান্সফিউশন-মুক্ত। ওষুধের উপরও আর নির্ভর করতে হচ্ছে না। পরিবারের কথায়, সে এখন তার সমবয়সী আর পাঁচটা শিশুর মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।

অক্ষয়ের গল্প শুধু একটি চিকিৎসা-সাফল্যের কাহিনি নয়। এটি এমন এক পরিবারের গল্প, যারা কঠিন বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন পথ খুঁজেছিল। আর এটি এমন এক চিকিৎসা-পদ্ধতির গল্প, যা ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রক্তরোগে আক্রান্ত বহু পরিবারের কাছে নতুন আশার দিশা দেখাতে পারে।

চিকিৎসকদের দাবি, কলকাতায় এই প্রথম এতগুলি বিষয়ের সমন্বয়ে চিকিৎসা-পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে আইভিএফ (IVF), জেনেটিক স্ক্রিনিং, এইচএলএ (HLA) ম্যাচিং, কর্ড ব্লাড সংরক্ষণ এবং স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট-পুরো প্রক্রিয়াটি একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসকদের মতে, ডোনার খোঁজা থেকে শুরু করে জেনেটিকভাবে ম্যাচড ভাই-বোনের জন্ম, কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্কিং এবং সফল ট্রান্সফিউশন-মুক্ত ফলাফল-এই সম্পূর্ণ চিকিৎসা-শৃঙ্খলটি কলকাতায় এই প্রথম সফলভাবে বাস্তবায়িত হল।

Read more news like this on bengali.timesnownews.com

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Times Now khabar