Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
TVS Ronin vs Royal Enfield Hunter 350 : কিলার লুক কার? মাইলেজ আর পারফরম্যান্সে এগিয়ে কে? রোজের যাতায়াতের জন্য দু-জনের সেরা কোন জন?

TVS Ronin vs Royal Enfield Hunter 350 : কিলার লুক কার? মাইলেজ আর পারফরম্যান্সে এগিয়ে কে? রোজের যাতায়াতের জন্য দু-জনের সেরা কোন জন?

TVS Ronin vs Royal Enfield Hunter 350 : ভারতের টু-হুইলার বাজারে টিভিএস রোনিন (TVS Ronin) এবং রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ (Royal Enfield Hunter 350) একে অপরের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারতে রোনিন-এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ১.২৮ লক্ষ টাকা থেকে, অন্যদিকে হান্টার ৩৫০-এর প্রারম্ভিক দাম ১.৩৮ লক্ষ টাকা।

দুটি বাইকের লক্ষ্যই কিন্তু এক শ্রেণির ক্রেতা। তবে শহরের ট্রাফিকে টানা এক সপ্তাহ এই দুটি বাইক চালালে আপনার মনে হবে, এরা সম্পূর্ণ আলাদা দুই ধরণের মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে (tvs ronin vs royal enfield hunter 350) ।

রোনিন-এ রয়েছে ২২৫.৯ সিসি-র ইঞ্জিন, যার ওজন ১৫৯ কেজি এবং এটি ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, ইউএসডি (USD) ফর্ক ও রাইডিং মোডের মতো ফিচারে ঠাসা। অন্যদিকে, হান্টার ৩৫০-এ আছে একটি ৩৪৯ সিসি-র লং-স্ট্রোক ইঞ্জিন, যার ওজন ১৮১ কেজি এবং এর মেকানিজম একেবারেই জটিলতাহীন ও সাধারণ। রাস্তায় নামলে এই দুটি বাইকের ভেতরের পার্থক্য স্পেক শিট বা কাগজ-কলমের তুলনার চেয়েও অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতে প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য আপনি যদি এই দুটির মধ্যে কোনো একটি কেনার কথা ভাবেন, তবে সিদ্ধান্তটি বাইকের লুক বা চেহারার ওপর নয়, বরং আপনার রাইডিং স্টাইলের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত।



ইঞ্জিনের পার্থক্য স্পষ্ট - তবে যা ভাবছেন তা নয়

রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার-এর ৩৪৯ সিসি J-সিরিজ ইঞ্জিন ২০.২ হর্সপাওয়ার (hp) এবং ২৭ নিউটন মিটার (Nm) টর্ক তৈরি করে। অপরদিকে, টিভিএস রোনিন-এর ২২৫.৯ সিসি ইঞ্জিনটি ২০.১ হর্সপাওয়ার এবং ১৯.৯৩ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। অর্থাৎ, অন-পেপার পাওয়ার বা শক্তির সংখ্যা প্রায় একই। কিন্তু রাস্তায় এই পাওয়ার ডেলিভারি বা শক্তি দেওয়ার ক্ষমতা একেবারেই আলাদা।

হান্টারের টর্ক খুব কম রেভ (rev)-এই পাওয়া যায় এবং তা বজায় থাকে। শহরের ট্রাফিকে এর সুবিধা হলো - আপনাকে ঘন ঘন গিয়ার পরিবর্তন করতে হবে না, ইঞ্জিন কম রেভ-এই কোনো চাপ ছাড়াই টেনে নেয়। ফলে এটি চালানোর সময় বেশ আরামদায়ক ও শান্ত অনুভূতি মেলে। বিপরীতে, রোনিন-এর ইঞ্জিনকে সচল করতে একটু বেশি রেভ বা পিক-আপের প্রয়োজন হয়, যা বাইকটিকে বেশ শার্প বা চটপটে করে তোলে ঠিকই, তবে বাম্পার-টু-বাম্পার জ্যামে আপনাকে গিয়ারবক্স নিয়ে একটু বেশি খাটতে হবে।



মাইলেজ বা ফুয়েল এফিসিয়েন্সির দিক থেকে রোনিন অনেকটাই এগিয়ে। বাস্তব পরিস্থিতিতে রোনিন প্রতি লিটারে প্রায় ৪০-৪২ কিমি মাইলেজ দেয়, যেখানে হান্টারের মাইলেজ ৩৫-৩৬ কিমি প্রতি লিটার। এছাড়া রোনিনের ফুয়েল ট্যাঙ্ক ১৪ লিটারের এবং হান্টারের ১৩ লিটারের। এর মানে হলো, একবার ফুল ট্যাঙ্ক তেল ভরলে হান্টারের তুলনায় রোনিন প্রায় ১০০ কিমি বেশি পথ চলতে পারবে। যারা প্রতি সপ্তাহে তেল ভরেন, তাদের জন্য এই পার্থক্য মোটেও ছোট নয়।


শহরের ট্রাফিকে ২২ কেজির ফারাক অনেক বড় বিষয়

টিভিএস রোনিন-এর ওজন ১৫৯ কেজি, আর হান্টারের ওজন ১৮১ কেজি। এই ২২ কেজির পার্থক্য আপনি প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে অনুভব করতে পারবেন - ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকার সময়, পার্কিং লটে, জ্যামের ফাঁক গলে বাইক বের করার সময় কিংবা সরু গলিতে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময়। কম গতিতে রোনিন সামলানো অনেক বেশি সহজ।

Best Smart AC india 2026 : সারাদিন চললেও বিল আসবে নামমাত্র! AI ফিচারে ঠাসা এই AC ফাংশনে পাগল হয়ে যাবেন, Wifi, Smart Remort কী নেই! মধ্যবিত্তের ঘরের জন্য বেস্ট

রোনিন-এ আপসাইড-ডাউন (USD) ফ্রন্ট ফর্ক দেওয়া হয়েছে, যেখানে হান্টারে রয়েছে প্রথাগত টেলিস্কোপিক সেটআপ। হালকা ওজনের সাথে এই উন্নত সাসপেনশনের কম্বিনেশনের কারণে রোনিন অনেক বেশি চটপটে এবং রাইডারের নির্দেশনায় দ্রুত সাড়া দেয়। যেসব রাইডারের উচ্চতা একটু কম বা যারা অনেকদিন পর আবার বাইক চালানো শুরু করছেন, তাদের কাছে রোনিন চালানো অনেক সহজ ও চাপহীন মনে হবে।

তবে হান্টার ৩৫০-ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে। এর রাইড কোয়ালিটি বা চলার গতি অনেক বেশি স্থিতিশীল - ভাঙাচোরা রাস্তা বা রাস্তার জোড়ামুখগুলো এর সাসপেনশন খুব সহজেই সামলে নেয়। হাইওয়েতে বেশি গতিতে চলার সময় হান্টার অনেক বেশি মাটির সাথে কামড়ে থাকে। এর সিটটি চওড়া এবং কুশনিং বা প্যাডিং খুব ভালো, যা প্রতিদিনের দীর্ঘ যাতায়াতে আরাম দেয়। হান্টারের ফুটপেগ বা পা রাখার জায়গাটির পজিশন এমনভাবে দেওয়া, যা আপনাকে একদম সোজা ও স্বাভাবিকভাবে বসতে সাহায্য করে; অন্যদিকে রোনিনের সামান্য পেছনের দিকে থাকা ফুটপেগ খোলা রাস্তায় ভালো পারফর্ম করলেও, শহরের এক ঘণ্টার জ্যামে আপনাকে কিছুটা ক্লান্ত করে তুলতে পারে।

ফিচার এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

ফিচারের দিক থেকে রোনিন বেশ আধুনিক। এতে রয়েছে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, ভয়েস অ্যাসিস্ট, গিয়ার শিফট ইন্ডিকেটর, জ্যামে আস্তে আস্তে চলার জন্য 'গ্লাইড-থ্রু টেকনোলজি' এবং রেইন ও আরবান মোড সহ ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস (ABS)। অন্যদিকে হান্টার ৩৫০-এ রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস এবং টপ ভেরিয়েন্টে ট্রিপার নেভিগেশন পড। এতে কোনো ব্লুটুথ, রাইডিং মোড বা কানেক্টেড ফিচার নেই।
প্রতিদিনের যেসব অফিসযাত্রী যাতায়াতের সময় ফোনে কানেক্টিভিটি এবং নেভিগেশন চান, প্রযুক্তির দিক থেকে রোনিন তাদের জন্য অনেক বেশি প্র্যাক্টিক্যাল বা ব্যবহারোপযোগী। হান্টার সবকিছুকে খুব সহজ-সরল রেখেছে - যারা অ্যাপ কানেক্ট করা বা পেয়ারিং করার ঝামেলা পছন্দ করেন না, তাদের জন্য হান্টার একটি দুর্দান্ত বিকল্প।

Triumph Street Triple 765 RX : অ্যাড্রিনালিনে ঝড় তুলবে! প্রতি টার্নে অ্যাডভেঞ্চার, নতুন অবতারে হাজির বাইক মনস্টার, দাম আর স্পেশিফিকেশন জেনে নিন

রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্সের কথায় আসি। রোনিনের ২২৫ সিসি-র ছোট ইঞ্জিনের সার্ভিসিং খরচ সাধারণত কম হয়। তাছাড়া রয়্যাল এনফিল্ডের তুলনায় ভারতের ছোট ছোট শহর ও মফস্বলে টিভিএস (TVS)-এর সার্ভিস নেটওয়ার্ক অনেক বেশি বিস্তৃত। আপনি যদি বড় মেট্রো সিটির বাইরে থাকেন, তবে বাইকের কোনো সমস্যা হলে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শেষ কথা
খাঁটি শহরের প্রতিদিনের যাতায়াত - বারবার থামা আর চলা, তেলের খরচ বাঁচানো এবং মাঝেমধ্যে একটু-আধটু হাইওয়ে রাইডের জন্য রোনিন চালানো ও তার সাথে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ। কিন্তু আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতে যদি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, হাইওয়েতে বেশি সময় কাটে এবং আপনি যদি এমন একটি শান্ত ইঞ্জিন পছন্দ করেন যা খুব বেশি খাটুনি ছাড়াই মসৃণভাবে চলে - তবে হান্টার ৩৫০ আপনার লাইফস্টাইলের সাথে সবচেয়ে ভালো খাপ খাবে।

Read more news like this on bengali.timesnownews.com

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Times Now khabar