গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজার নিয়োগ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালতে (supreme court)। কলকাতা হাই কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সেখানেও স্বস্তি মেলেনি-নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট এবং টিএমসি-র আবেদন সরাসরি খারিজ করেছে।
ফলে ভোটগণনার ঠিক আগে এই ইস্যুতে কমিশনের অবস্থান আরও মজবুত হল।
হাই কোর্টের রায়েই সিলমোহর
এর আগে, গণনাকেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগের বিরুদ্ধে তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্টভাবে জানান, গণনাকেন্দ্রে কাদের সুপারভাইজার করা হবে তা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার-এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন-এর ১০০ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বলেন, যদি কোনও প্রার্থী মনে করেন যে সুপারভাইজারের ভূমিকার কারণে অন্যায়ভাবে নির্বাচনের ফলাফল (West Bengal Assembly Election 2026) প্রভাবিত হয়েছে, তাহলে নির্বাচনী পিটিশনের মাধ্যমে তা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।
Repoll Magrahat West Diamond harbour: মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবারে ১৫ বুথে পুনর্নির্বাচন শুরু, ভোটদান ঘিরে তৎপর তৃণমূল-বিজেপি
কমিশনের যুক্তিতে আস্থা শীর্ষ আদালতের
সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের জমা দেওয়া জবাব রেকর্ডে নিয়েছে এবং কমিশনের জারি করা সার্কুলারে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। কমিশনের তরফে জানানো হয়, 'হ্যান্ডবুক ফর রিটার্নিং অফিসার্স ২০২৬' অনুযায়ী কাউন্টিং সুপারভাইজারদের গেজেটেড অফিসার বা গ্রুপ-বি/সি শ্রেণির আধিকারিক হতে হবে। তাঁরা কেন্দ্র বা রাজ্য-যে কোনও স্তরের কর্মচারী হতে পারেন। এই নিয়ম মেনেই নিয়োগ করা হয়েছে এবং এতে কোনও রাজনৈতিক দলের আপত্তির সুযোগ নেই।
টিএমসি-র অভিযোগ ও পাল্টা সওয়াল
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সুবিধার্থে কাজ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন মাইক্রো অবজারভার ও কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা ইতিমধ্যেই নিয়োগ করা হয়েছে, তখন কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সুপারভাইজার হিসেবে আনা হচ্ছে? তাঁর দাবি, অন্য কোনও রাজ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
পাল্টা কমিশনের আইনজীবী জানান, সমস্ত নিয়োগই নির্ধারিত নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং এতে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।
West Bengal Assembly Election 2026: শেষ মুহূর্তের চাল ব্যর্থ! ফের আদালতে মুখ পুড়ল তৃণমূলের-গণনা ইস্যুতে কমিশনের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর
গণনার আগে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় সম্পন্ন হয়েছে-২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। বর্তমানে ইভিএমগুলি স্ট্রংরুমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। আগামী ৪ মে ভোটগণনা। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু আইনি লড়াইয়ের ইতি টানল না, বরং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করল।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

