রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটগণনা শুরু হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তার ঠিক আগেই উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় (Noapara) শুটআউটের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সম্পাদক কুন্দন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতী।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় ইতিমধ্য়েই দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতরা করা সম্ভব হয়েছে।
বিভীষিকাময় শনিবার রাত ও দুষ্কৃতী তাণ্ডব
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার গভীর রাতে যখন নোয়াপাড়ার বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এলাকা কেঁপে ওঠে গুলির শব্দে। বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ কুন্দন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালায় দুই যুবক। সিসিটিভি ফুটেজে (ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি টাইমস নাও খবর) দেখা গিয়েছে, একটি স্কুটিতে চড়ে দুই দুষ্কৃতী কুন্দনের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। তাঁদের মধ্যে একজন আচমকাই আগ্নেয়াস্ত্র বের করে বাড়ির জানলা ও দরজা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যান বাড়ির সদস্যরা। কাজ সেরে দুষ্কৃতীরা নিমেষের মধ্যে স্কুটি নিয়ে চম্পট দেয় এলাকা থেকে। যদিও ভাইরাল হওয়া ওই সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম।
পুলিশের তৎপরতা ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার
এই ঘটনার পরপরই নোয়াপাড়া থানায় খবর দেওয়া হয় এবং কুন্দন সিংয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে আকাশ চৌধুরী ও আমন নামে দুই যুবকের নাম উল্লেখ করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে রাতেই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আকাশ ও আমন নামের ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাঁদের কাছ থেকে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নেপথ্যে কি রাজনৈতিক হিংসা?
ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক আগের রাতে এই ঘটনায় স্বভাবতই রাজনীতির রং লেগেছে। কুন্দন সিংয়ের দাবি, তাঁকে ভয় দেখাতে এবং এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ সব কটি দিক খতিয়ে দেখছে। এই হামলার মূলে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বিবাদ রয়েছে, না কি এর নেপথ্যে পুরনো কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এলাকায় থমথমে পরিবেশ
এই শুটআউটের ঘটনার পর থেকে নোয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ডিসিপি এবং অন্যান্য পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। ভোটগণনার মুখে এই গুলিকাণ্ড যে প্রশাসনকে বাড়তি চাপে ফেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

