West Bengal Assembly Election 2026 : ভোট মিটলেও উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই। গণনার প্রাক্কালে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজপথে নামল শাসক-বিরোধী দু-পক্ষই। মঙ্গলবার রাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে থাকার পর বেরিয়ে এসে তিনি এক 'গুজরাতি' যুবকের দিকে আঙুল তুলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন (mamata banerjee gujarati youth controversy) ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ও 'গুজরাতি' যুবক বিতর্ক
গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে দাবি করেন, তৃণমূলের গাড়ির সামনে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক যুবক ছিলেন যিনি আদতে বহিরাগত এবং গুজরাত থেকে এসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ:
- ওই যুবক ভবানীপুরের ভোটার নন, অথচ সেখানে এসে ফেসবুকে লাইভ করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছিলেন।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া সুরে বলেন, "গণনাকেন্দ্রের বাইরে ঝগড়া করার জায়গা নয়। উনি এখানকার লোকই নন। এটা আমার জায়গা, চাইলে আমি ১০ হাজার লোক জড়ো করতে পারি।"
যুবকের পাল্টা জবাব:
মুখ্যমন্ত্রী যাঁর দিকে আঙুল তুলেছিলেন, সেই দীপ প্রজাপতি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। তিনি জানান:
- তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
- ভারতবর্ষের নাগরিক হিসেবে তিনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে এখানকার পরিস্থিতি দেখেই তিনি প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি
একই রাতে উত্তেজনা ছড়ায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরেও। সেখানেও 'বহিরাগত' প্রবেশের অভিযোগ তোলে তৃণমূল।
- শাসকদলের অবস্থান: ইভিএম সুরক্ষিত নয়- এই অভিযোগ তুলে স্ট্রংরুমের সামনে ধরনায় বসেন তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা।
- বিজেপির উপস্থিতি: কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র স্লোগান যুদ্ধ, যা কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি করে।
কমিশনের স্পষ্টীকরণ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামে নির্বাচন কমিশন। সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন:
"সমস্ত ইভিএম এবং ব্যালট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। স্ট্রংরুমে কোনও বহিরাগত প্রবেশ করেনি এবং বিধিবদ্ধ নিয়মের বাইরে কোনও কাজ করা হয়নি। কোনও অসৎ উদ্দেশ্য সেখানে ছিল না।" গণনার আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে এই নজিরবিহীন টানাপোড়েনে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
Read more news like this on bengali.timesnownews.com

