Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
West Bengal DA Arrears: অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বকেয়া ডিএ, কর্মরতদের টাকা কবে?

West Bengal DA Arrears: অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বকেয়া ডিএ, কর্মরতদের টাকা কবে?

দীর্ঘ আইনি লড়াই, কর্মচারী সংগঠনের চাপ এবং সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলার মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (West Bengal DA Arrears) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। নবান্নের অর্থ দফতর সূত্রে খবর, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের একাংশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই বকেয়া DA-এর টাকা ঢুকতে শুরু করেছে।

তবে এই দফায় সবাই টাকা পাচ্ছেন না। আপাতত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অবসর নেওয়া কর্মীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সালের মধ্যে যাঁরা সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, তাঁদের একাংশের অ্যাকাউন্টে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) পাঠানো শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারে বর্তমানে যাঁরা কর্মরত, তাঁরা এখনও এই দফার টাকা পাচ্ছেন না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কর্মরত সরকারি কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কবে এই বকেয়া টাকা পাবেন?

প্রথম ধাপে কেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা?

নবান্নের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া DA নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। প্রথম দফায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের (Retired Government Employees) টাকা দেওয়া শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে ধারণা, সরকার ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর পথে এগোতে চাইছে।

তবে এখনই বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ স্পষ্টতা নেই। কত শতাংশ হারে বকেয়া DA দেওয়া হচ্ছে, হিসাব কোন সূত্রে করা হচ্ছে, এবং এই টাকা সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত ২৫ শতাংশের অংশ কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, টাকা দেওয়া শুরু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও হিসাবের স্বচ্ছতা জরুরি।

আরও পড়ুন: Major Schemes of Modi Government: মোদী সরকারের ১২ বছরে কোন ১২ প্রকল্প বদলেছে দেশের ছবি?

২০০৮ থেকে ২০১৫, কোন সময়ের বকেয়া?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আপাতত ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া DA মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যের DA মামলা বহু বছর ধরে ROPA 2009, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের DA-র ব্যবধান ঘিরে চলেছে।

এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া নিয়ে আলাদা ধাপে অর্থ মেটানোর প্রসঙ্গ সামনে এসেছিল। এবার ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের টাকা দেওয়া শুরু হওয়ায় মামলার বৃহত্তর আর্থিক দায় এবং প্রশাসনিক বাস্তবায়ন-দুই দিকেই নতুন গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

কর্মরতরা কবে পাবেন?

এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। কারণ বর্তমানে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা এখনও এই দফার বকেয়া পাচ্ছেন না। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের একাংশও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া দেওয়া শুরু হওয়া ভাল, কিন্তু কর্মরতদের প্রাপ্যও দ্রুত মেটানো প্রয়োজন।

আগামী ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে কর্মচারী মহল। বর্তমান কর্মীদের বকেয়া DA কবে থেকে দেওয়া হবে, অর্থপ্রদানের ধাপ কী হবে, এবং কোন বিভাগ আগে টাকা পাবে-এসব বিষয়ে ওই বৈঠকে দিশা মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: PAN Card Update: নাম-ঠিকানা-জন্মতারিখ ভুল? অনলাইনে ঠিক করবেন কীভাবে

সুপ্রিম কোর্টে মামলার প্রভাব

বকেয়া DA নিয়ে মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। রাজ্য সরকারের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, তা নিয়েও আদালত জানতে চেয়েছে। রাজ্যের তরফে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে শীর্ষ আদালত পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ধার্য করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তার আগে রাজ্যকে DA মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; আইনি প্রক্রিয়ার দিক থেকেও তা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আদালত, কর্মচারী সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের মাঝেই এবার বাস্তব অর্থপ্রদানের প্রথম বড় পদক্ষেপ দেখা গেল।

কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া

কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, দেরিতে হলেও বকেয়া DA দেওয়ার কাজ শুরু হওয়া ইতিবাচক। তবে তাঁরা একই সঙ্গে দাবি তুলেছেন, শুধু অবসরপ্রাপ্তদের নয়, কর্মরত সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্য যোগ্য কর্মীদের বকেয়াও দ্রুত মেটাতে হবে।

অন্যদিকে, যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও কোনও টাকা ঢোকেনি, তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেউ জানতে চাইছেন, কোন তালিকার ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হচ্ছে। কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি নির্দেশিকা বা স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এই অর্থপ্রদানের হিসাব কীভাবে বোঝা যাবে?


নজর এখন নবান্ন ও ১ জুনের বৈঠকে

সব মিলিয়ে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (West Bengal DA Arrears) নিয়ে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ সরকারি কর্মচারী মহলে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে থেকে যাচ্ছে একাধিক প্রশ্ন-কত শতাংশ টাকা দেওয়া হচ্ছে, কারা পরের ধাপে টাকা পাবেন, কর্মরতদের ক্ষেত্রে কবে প্রক্রিয়া শুরু হবে, এবং সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য কী স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্বচ্ছতা। নবান্ন যদি পরিষ্কার নির্দেশিকা প্রকাশ করে, তা হলে বিভ্রান্তি কমবে। ১ জুনের বৈঠক তাই শুধু আলোচনার বৈঠক নয়; রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের কাছে এটি বকেয়া DA-র ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।

Read more news like this on bengali.timesnownews.com

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Times Now khabar