Dailyhunt
"১০ ঘণ্টার কাউন্টডাউন!"-হরমুজ না খুললে পুড়বে ইরান? ট্রাম্পের 'অপারেশন ডেসট্রাকশন'-এর ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস

"১০ ঘণ্টার কাউন্টডাউন!"-হরমুজ না খুললে পুড়বে ইরান? ট্রাম্পের 'অপারেশন ডেসট্রাকশন'-এর ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস

tips24 1 week ago

২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ৪৮ ঘণ্টার 'আল্টিমেটাম' দিয়েছিলেন, তার সময়সীমা আজ রাতে শেষ হচ্ছে। ট্রাম্পের সাফ কথা- হয় হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে, নয়তো ইরানকে এমন ধ্বংসযজ্ঞের মোকাবিলা করতে হবে যা দেশটিকে 'প্রস্তর যুগে' ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

ট্রাম্পের হিটলিস্টে ইরানের যে পরিকাঠামোসমূহ:

আমেরিকা ও ইজরায়েলি বাহিনীর নিশানায় রয়েছে ইরানের লাইফলাইন বা জীবনরেখা। একনজরে দেখে নিন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলি:

১. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Energy Grid)

ইরানের প্রায় ৯০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার সিংহভাগই গ্যাস-চালিত। ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে:

  • দামাভান্দ কম্বাইন্ড সাইকেল: তেহরানের কাছে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম (২,৮৬৮ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

  • বুশেহর পরমাণু কেন্দ্র: ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টটি ধ্বংস হলে ইরান অন্ধকারে ডুবে যাবে।

  • অন্যান্য: রামিন-আহওয়াজ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ বাঁধগুলি।

২. যাতায়াত ও সেতু (Strategic Bridges)

ইতিমধ্যেই আলবোর্জ প্রদেশের বি-১ সেতু ধ্বংস করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পরবর্তী টার্গেট হতে পারে:

  • কারুন নদীর ওপরের খিলান সেতু।

  • ইসফাহানের জায়ানদেহ নদীর ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সেতুসমূহ, যা ধ্বংস হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে যাবে।

৩. সামরিক ঘাঁটি ও 'ক্ষেপণাস্ত্র নগরী'

ইরানের আসল শক্তি তাদের মাটির তলায়। মার্কিন গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে:

  • বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটি: পারস্য উপসাগরের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

  • আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি: কেরমানশাহ, কোম এবং খোরাসানের পাহাড়ের গভীরে লুকনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার।

ইরানের পাল্টা চাল: 'মানব ঢাল' ও রহস্য

ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলায় ইরান এক অদ্ভুত কৌশল নিয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি বাঁচাতে সেখানে মানব শৃঙ্খল বা 'হিউম্যান চেইন' গড়ার ডাক দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা ইরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ঘড়ির কাঁটা কী বলছে?

আর মাত্র ১০-১২ ঘণ্টা। যদি এর মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে কোনো মিটমাট না হয় বা ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে আজকের রাতটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রাত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি থেকে জ্বালানি বাজার- সব এখন ঝুলে আছে ট্রাম্পের একটি নির্দেশের ওপর।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tips 24